গোপাল সিং, খোয়াই, ১২ জানুয়ারি || বুধবার খোয়াইয়ে মহান সমাজ সংস্কারক ও দার্শনিক স্বামী বিবেকানন্দের ১৬০’তম জন্মদিনে রক্তদান শিবির ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ডি ওয়াই এফ আই। সংগঠনের সিংগিছড়া অঞ্চল কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় পার্শ্বনাথ মুকুল ভবনের হল ঘরে আয়োজিত এদিনের রক্তদান শিবিরে রক্তদান করেন ২১ জন যুবক যুবতী। একইসাথে আয়োজিত হয় আলোচনা সভা সংগঠনের বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গণ আন্দোলনের নেতা তথা প্রাক্তন অর্থ ও শিক্ষামন্ত্রী ভানুলাল সাহা স্বামী বিবেকানন্দের জীবনাদর্শের অনুসারী হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নতুন ভারত গড়ে তোলার কাজে ব্রতী হওয়ার জন্য যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে সকালে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে তফশিলি সমন্বয় সমিতির উদ্যোগেও পৃথক কর্মসূচীতে মহান দার্শনিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সমিতির রাজ্য নেতা সুনির্মল ঋষিদাস।
ডি ওয়াই এফ আই’র আলোচনা সভার শুরুতে বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান গণ আন্দোলনের নেতা তথা প্রাক্তন অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রী ভানুলাল সাহা, সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক সহ মহকুমার গণ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও প্রাক্তন যুবনেতৃবৃন্দ।সকালে তফশিলি সমন্বয় সমিতির কর্মসূচীতে সংগঠনের রাজ্য নেতা সুনির্মল ঋষিদাস ছাড়াও বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের মহকুমা সভাপতি অজয় দাস ও মহকুমা সম্পাদক উদয় কৃষ্ণ দাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ডি ওয়াই এফ আই’র বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভানুলাল সাহা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক, বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস ও সংগঠনের বিভাগীয় সম্পাদক গৌতম পাল। সভানেত্রী ছিলেল বিভাগীয় সভানেত্রী মল্লিকা শীল।
আলোচনা সভায় ভানুলাল সাহা বলেন, স্বামী বিবেকানন্দকে শুধুমাত্র একজন বীর সন্ন্যাসীর মতো দেখলে চলবে না। তিনি একজন মহান দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারক। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত মানবদরদী। তিনি বর্ণভেদ প্রথার ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। জাতিভেদ ও বর্ণভেদ প্রথার অবসানের লক্ষ্যে সারা দেশ ও বিশ্বজুড়ে কাজ করেছেন তিনি। এজন্য তাকে বিভিন্ন জায়গায় শারীরিক ভাবে নিগৃহীত হতে হয়েছে।
ভানুলাল সাহা বলেন, বিবেকানন্দ ছিলেন মানবতাবাদী পুরুষ। তিনি এক সুমহান আদর্শকে অন্তরে লালন করতেন। তাঁর চেতনা ছিল উঁচু স্তরের। এজন্যই তিনি বলতে পেরেছিলেন, হে ভারত ভুলিও না, মুচি মেথর দলিতরা তোমার ভাই। ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। অস্পৃশ্যতা আর সংকীর্ণ জাতপাতের উর্ধে উঠা এক মহান ভারত ও এক মহান বিশ্বের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ধর্মের নামে জোর করে মানুষের ওপর অধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বলীয়ান হয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ যুবসমাজ গড়ে তুলে নতুন ভারত ও নতুন বিশ্বের স্বপ্নকে সফল রুপদানের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আলোচনা সভায় রাজ্য যুবনেতা পলাশ ভৌমিক বলেন, যুব সম্প্রদায়ের কাছে বিবেকানন্দের চিন্তাচেতনার মর্মকথা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের। জাতপাত আর ধর্মান্ধতার মধ্য দিয়ে রাজনীতিকে কলুষিত করে তোলার মধ্য দিয়ে যুবদেরকে রাজনীতি বিমুখ করে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত রুখে দিতে হবে।
বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বিভেদের রাজনীতি ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে বিবেকানন্দ আজো সমান প্রাসংগিক।
