সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ২০ জানুয়ারি || বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক দশটা নাগাদ কল্যাণপুরের শান্তিনগরের সোনাছড়ার একটা পরিত্যেক্ত সেগুন বাগানে গাছ কাটতে গেলে স্থানীয় মানুষজন এক নর খুলি সহ কিছু হাড়ের অস্তিত্বের ব্যাপারে জানতে পারে। তখন সাথে সাথেই কল্যাণপুর থানায় খবর দেওয়া হলে কল্যাণপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় প্রায় ৪০ হাত লম্বা একটা গাছের উপরে দুটো গামছা জোড়া দিয়ে বাঁধা ছিল। এই গাছের গোড়াতেই একটা পোশাক পড়া ছিল। জানা গেছে, এই পোশাকটি নাকি খোকন দেবনাথ নামে জনৈক ব্যক্তির। তিনি গত জুন মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন এবং নিখোঁজের ব্যাপারে খোয়াই থানায় ডায়েরি করা হয়েছিল। পারিপার্শ্বিক ঘটনা বা মাথার খুলির অবস্থান এবং উদ্ধার হওয়া পোশাক বা গামছার উপরে নির্ভর করে পরিবার সূত্রে অনুমান করা হচ্ছে হয়তোবা এই মাথার খুলিটি নিখোঁজ হয়ে যাওয়া খোকন দেবনাথেরই। কিন্তু প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে যে খোকন দেবনাথ কখনো গাছে উঠতে পারতো না, সেই খোকন দেবনাথ কিভাবে ৪০ হাত লম্বা গাছের উপরে উঠে গলায় ফাস লাগাবেন? মোদ্দা কথা হচ্ছে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন এবং চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও কল্যাণপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
এদিকে খোকন দেবনাথের ভাইয়ের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে তার বৌদি অর্থাৎ খুকন দেবনাথের স্ত্রী জড়িত থাকতে পারেন। অন্যদিকে খোকন দেবনাথের স্ত্রী নমিতা দেবনাথ জানালেন, তিনি কাউকে দোষারোপ করছেন না, বা কারো অভিযোগ নিয়েও কর্ণপাত করতে নারাজ। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি করছেন সঠিক তদন্তের। তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন নবিতা দেবনাথ। জানা গেছে, নিখোঁজ হয়ে যাওয়া খোকন দেবনাথ পেশায় একজন কৃষিজীবী এবং প্রান্তিক চাষী ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে বর্তমানে বেকারিতে কর্মরত এবং আরেক ছেলে কোন একটা কোম্পানির কাজে সুদুর চেন্নাইতে রয়েছেন।
সে যাই হউক সাত সকালে শান্তিনগর গ্রামের এই জঙ্গলাকীর্ণ এলাকাতে নর খুলি উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
