সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০৯ জুলাই || সদ্য ঘোষিত মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজর করা ফলাফল করল কল্যানপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়। যেখানে মানুষের একটা বেসরকারি শিক্ষার দিকে প্রবণতা সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও যে অভূতপূর্ব ফলাফল অর্জন করা যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ কল্যাণপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়। অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরনো এই বিদ্যালয়ের সার্বিক সফলতায় খুশি সকলেই। এরমধ্যে নজর করা ফলাফল অর্জন করেছে প্রীয়া পাল, মিশংকর দাস এবং মৌমিতা দত্ত।
প্রীয়া পালঃ
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রীয়া মোট ৪৭৭ নম্বর পেয়ে বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম হয়েছে। পিতৃহীনা প্রিয়া তার মায়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং চারজন গৃহ শিক্ষকের সহায়তায় ভর করে এই অভাবনীয় সফলতা পেয়েছে। প্রিয়া তার এই সফলতার পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদানকেও নত মস্তকে স্বীকার করছে। আগামী দিনে হয় কোন প্রশাসনিক আমলা আর নয়তো শিক্ষকতার পেশাকে বেছে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে কল্যাণপুরের এই কৃতি ছাত্রী। বর্তমানে সে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে কল্যাণপুর দ্বাদশ শ্রেনী বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে চলেছে বলে আমাদের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে প্রীয়া। প্রিয়ার এই সফলতার খবরে খুশি তার পরিবার-পরিজন, গৃহ শিক্ষক সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
মিশংকর দাসঃ
অন্যদিকে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় নিজের একাগ্রতা, আত্মবিশ্বাস আর কোন কিছু করার অদম্য ইচ্ছার সংমিশ্রণে তাক লাগানো ফলাফল করলো কল্যাণপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের আরেক ছাত্র মিশংকর দাস। মা বাবার একমাত্র সন্তান মিশংকর ভবিষ্যতে বড় কোন প্রশাসনিক আমলা হতে চায়, তার জন্য সে টিসিএস বা টিপিএস পরীক্ষায় বসে ভালো ফলাফল করতে চায়। তার এই সফলতার খবরে খুশির আবহ গোটা বিদ্যালয় সহ কল্যাণপুর জুড়ে। পড়াশোনা ছাড়াও শাস্ত্রীয় সংগীত এবং আঁকাতে বেশ শখ রয়েছে মিশংকরের। চারজন গৃহ শিক্ষকের সহায়তা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের নির্দেশনার উপর ভর করে সে ৪৬৩ নাম্বার সংগ্রহ করেছে। তার এই ফলাফলে সে সন্তুষ্ট, তবে আগামী দিনে আরো ভালো ফলাফল করার জন্য মুখিয়ে রয়েছে মিশংকর এমনটাই জানাল কল্যাণপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়তে চলা মিশংকর।
মৌমিতা দত্তঃ
দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘন্টা পড়াশোনা করেছে কল্যাণপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের কৃষক পরিবারের মেয়ে মৌমিতা দত্ত। চারজন গৃহ শিক্ষকের সহায়তায় সে এবারের পরীক্ষায় মোট ৪৫৮ নম্বর পেয়েছে। ফলাফলে সাময়িক তৃপ্ত হলেও আরেকটু ভালো ফলাফল আশা করেছিল মৌমিতা। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বর্তমানে কল্যাণপুর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়তে চলেছে মৌমিতা দত্ত। মৌমিতার ফলাফলে খুশি তার মা-বাবা সহ পাড়া পরশিরা, সবাই চাইছেন আগামী দিনে মৌমিতা আরো ভালো ফলাফল করে মুখ উজ্জ্বল করুক গোটা কল্যাণপুরের।
