আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জানুয়ারি || বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পৌষ পার্বণ উৎসব। এই পৌষ পার্বণ উৎসব যুগ যুগ ধরে বিশেষ করে গ্রামীণ ত্রিপুরায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে এসেছে। বলা চলে বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ধারক এবং বাহক হচ্ছে এই পৌষ সংক্রান্তি উৎসব। এই পৌষ সংক্রান্তিতে প্রাচীনকাল থেকে বুড়ির ঘরের প্রচলন চলে এসেছে। যদিও কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই চিরাচরিত সংস্কৃতি ক্রমেই হারিয়ে যাওয়ার পথে।
এরপরও কিছু কিছু জায়গায় এখনও দেখা যায় এই বুড়ির ঘর। রাণীরবাজার রতন নগরের বিভিন্ন প্রান্তে আজও পৌষ সংক্রান্তিকে সামনে রেখে আট থেকে আশি একটা অংশের মানুষ এই বুড়ির ঘরকে নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেন। চিরাচরিতভাবে পৌষ সংক্রান্তির বেশকিছু আগে থেকেই ছন, বাঁশ সংগ্রহ করে ঘর তৈরির ধুম পরিলক্ষিত হয়। আর সংক্রান্তির আগের দিন রাতে ভূরিভোজ করার পরে ভোরবেলা সেই বুড়ির ঘরে অগ্নিসংযোগ করে চিরাচরিত প্রথাকে লালন করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। রাণীবাজার রতন নগর এলাকার যে কয়েকটা জনপদে এখনও স্বমহিমায় এই প্রথা প্রচলন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মান্দাই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রতন নগর এলাকা সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলগুলিতে এবং একাংশ পাহাড়ি জনপদ এলাকায় এসব স্থানে আজও এই বুড়ির ঘর নিয়ে আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায় একাংশকে। সবার একটাই আশা, আধুনিক সংস্কৃতিকে আমরা যতই ধরে রাখি না কেন, আধুনিকতার পথে আমরা যতই এগিয়ে যাই না কেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে লালিত হতে থাক এই চিরাচরিত বুড়ির ঘর সহ মকর সংক্রান্তি প্রতিপালনের রেওয়াজ।
