আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ জুন || সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান। বুধবার রাজধানী আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ২নং মিলনায়তনে আয়োজিত এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদন করে ওনার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজ্যের পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধূরী।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধূরী বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কেবল উপন্যাসিক বা প্রাবন্ধিক নন, তিনি ছিলেন এক গভীর চিন্তক। ধর্ম, রাজনীতি, সমাজনীতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর একটি নিজস্ব দর্শন ছিল।
তিনি বলেন, ভাষা ও উপন্যাসের কাঠামো তৈরির বিষয়ে তিনি পথ দেখিয়েছিলেন। দেশের রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষামূলক উন্নতির সব রকম প্রয়াসে তিনি অবিরাম লেখনী চালনা করেছেন। তাঁর ‘বন্দেমাতরম’ মন্ত্র ভারতবর্ষে রাষ্ট্রীয় ভাব প্রবুদ্ধ করেছে, অপূর্ব দেশপ্রীতির উদ্ভব ঘটিয়েছে। তাইতো বঙ্কিমচন্দ্র কেবলমাত্র সাহিত্যিক বা লেখক নন, উপরন্তু তিনি যুগস্রষ্টা।
তিনি বলেন, আজও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেশজ প্রয়োজন, রাজনৈতিক প্রয়োজন, সমসাময়িক প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি৷ তবে তারও উপরে যেটা প্রয়োজন, সেটা হলো বঙ্কিমচন্দ্রকে আরও ভালো করে জানা, তাঁকে অন্তরে ঠাঁই দেওয়া, বঙ্কিম দর্শনে নিজেদের উজ্জীবিত করা৷ বঙ্কিমচন্দ্র এমনই এক ভাণ্ডার যার প্রাসঙ্গিকতা কখনো ফুরায় না। সময়ের ভাঁজে একদিন এক এক করে প্রকৃত ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকেই চলে যেতে হবে। কিন্তু থেকে যাবে ইতিহাস! নতুন প্রজন্মের সম্মুখে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনাদর্শ ও মূল্যবোধ তুলে ধরার জন্য উদ্যোক্তাদের এমন ধরনের একটি সুন্দর আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন এই অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ডঃ প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মণীশ রুদ্রপাল, রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা। গোটা অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনা করেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য।
