‘বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণের অবসান’ – মূলভাবনাকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দিবসে সচেতনতা বৃদ্ধিতে শহরে বিভিন্ন কর্মসূচী

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুন || প্রতি বছর ৫ই জুন, পরিবেশ রক্ষার্থে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচীর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপি বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হযে অসছে। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট পরিবেশগত বিষয়কে কেন্দ্র করে এই দিবসের মূল ভাবনা নির্ধারিত হয়। এই বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূলভাবনা হল ‘এন্ডিং প্লাস্টিক পলিউশন গ্লোব্যালী’ অর্থাৎ “বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণের অবসান”। এই গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি পালনের অঙ্গ হিসেবে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, ত্রিপুরা সরকারের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের সহযোগিতায়, এই বছরের মূলভাবনাকে কেন্দ্র করে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করে।
গত ৩রা জুন, ২০২৫ ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কলেজ ভিত্তিক একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ থেকে আগত ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। পরদিন, অর্থাৎ ৪ই জুন ২০২৫ তারিখে আগরতলা সুকান্ত একাডেমিতে শিশুদের জন্য একটি বসেআঁকো প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে। এদিনই একটি রাজ্যভিত্তিক বিদ্যালয় স্তরের মডেল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যার বিষয়বস্তু ছিল বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরি। এছাড়াও, বনায়ন এবং পরিবেশগত রক্ষণাবেক্ষণ প্রচারের জন্য “এক পেড় মা কে নাম” এই কর্মসূচীর অধীনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০০টিরও বেশী গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
৫ই জুন ২০২৫, বৃহস্পতিবার রাজধানীর সুকান্ত একাডেমি থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এককালীন ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন-এই বিষয়ের উপর একটি গণসচেতনতামূলক পদযাত্রা বের হয়। এর পাশাপাশি একটি ট্যাব্লুর মাধ্যমে ‘Beat Plastic Pollution’-এর উপর একটি নাটিকা প্রদর্শিত হয়। এই পদযাত্রাতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী, এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের উৎসাহী অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
ত্রিপুরা সরকারের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা এই পদযাত্রার উদ্বোধন করেন। এই পদযাত্রাটি আগবতলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সুকান্ত একাডেমিতে মিলিত হয়।
এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর প্রজ্ঞা ভবনে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রতিযোগীদের পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধনকর, ত্রিপুরা সরকারের বন দপ্তরের প্রধান সচিব রবীন্দ্র কুমার শ্যামল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিভাগের অধিকর্তা মহেন্দর সিং এবং ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য সচিব ডঃ বিশু কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিভাগের অধিকর্তা মহেন্দ্র সিং স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা সমাজের সকল অংশকে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় বিচক্ষণতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। শ্রী দেববর্মা উনার বক্তব্যে বলেন, যে এই মিশনে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এছারাও উনি নিষিদ্ধ এককালীন ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পরিবেশগত ক্ষতিকর প্রভাব এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধনকর, এই মর্মে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রাচীনকাল থেকেই মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং এখনো আছে। তিনি শব্দ দূষণ, প্লাস্টিক দূষণ এবং বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
ত্রিপুরা সরকারের বন দপ্তরের প্রধান সচিব রবীন্দ্র কুমার শ্যামল বৃক্ষরোপণ এবং সেগুলির সুরক্ষায় জনসাধারণের অধিকতর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য সচিব ডঃ বিশু কর্মকার ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি উপস্থিত সকলকে পরিবেশ বান্ধব জীবনশৈলী গ্রহণ এবং প্রকৃতির প্রতি আন্তরিক হতে আহ্বান জানান।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*