গন্ডাছড়া মহকুমায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, রেগার কাজকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, সাংবাদিকের উপর হামলা

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ৭ জুন || গন্ডাছড়া মহকুমার পাখিত্রিপুরা পাড়ায় রেগা প্রকল্পের কাজকে কেন্দ্র করে ইন্ডেজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (IPFT) এবং তিপ্রা মথা দলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সংঘর্ষের সময় বাড়িঘর ও গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, রেগার কাজ নিয়ে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল, যা শুক্রবার রাতে চরম আকার ধারণ করে। পাখিত্রিপুরা পাড়ায় উভয় দলের সমর্থকরা মুখোমুখি হলে প্রথমে বচসা শুরু হয় এবং দ্রুত তা মারামারিতে গড়ায়। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। বেশ কিছু বাড়িঘর ও ব্যক্তিগত গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, তবে তাদের আঘাত কতটা গুরুতর তা এখনো জানা যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে গন্ডাছড়া মহকুমার এসডিপিও, ওসি এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও এলাকায় উত্তেজনা চরমে ছিল। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ কড়া নজরদারি চালায়।
এদিন সংঘর্ষের ঘটনার পর তিপ্রা মথার কিছু সমর্থক বাজার সংলগ্ন ব্রিজের কাছে জড়ো হয়। এই সময় ‘নিউজ আপডেট অব ত্রিপুরা ডট কম’ এর প্রতিনিধি সাংবাদিক সুব্রত দাস ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে বেদম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সাংবাদিকের উপর এই হামলার সময় এসডিপিও, ওসি এবং অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের সামনেই একজন সাংবাদিকের উপর এমন হামলা হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিক সুব্রত দাসকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়েছে। তার আঘাত গুরুতর বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সাংবাদিক মহল।
সংঘর্ষের মূল কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*