ডিপ ফ্রিজে এক যুবকের ট্রলী ব্যাগ বন্দী মৃতদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১১ জুন || গন্ডাছড়া মহকুমার ত্রিশ কার্ড এলাকার নিখোঁজ যুবক সুজিত নমঃশুদ্র’র রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের পর রক্তের দাগ মুছে যাওয়ার আগেই গন্ডাছড়ায় আবিষ্কৃত হলো আরো এক হার হিম হওয়া জ্বলজ্যান্ত আতঙ্কের বিরল ঘটনা। দোকানের ডিপ ফ্রিজে পাওয়া গেলো এক যুবকের ট্রলী ব্যাগ বন্দী মৃত লাশ। হতবাক গোটা গন্ডাছড়া মহকুমার জাতি জনজাতি অংশের মানুষ।
বিশদে জানা যায়, গন্ডাছড়া মহকুমা সদর সংলগ্ন দুর্গাপুরের বাসিন্দা তথা শিক্ষক দীপক সাহা। শিক্ষক দীপক সাহা তার স্ত্রী এবং একমাত্র ডাক্তার ছেলে দীপঙ্কর সাহাকে নিয়ে দুর্গাপুরে বসবাস করেন। শিক্ষক দীপক সাহা মহকুমার দুর্গাপুরের একটি অষ্টমমান বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও তিনি বসদের টু পাইস -এ ম্যানেজ করে বেশী একটা বিদ্যালয় মুখো হন না। কারণ দীপকবাবুর বহু ব্যবসা। আইস ক্রিম ফ্যাক্টরি, পানের দোকান, সুদের ব্যবসা, গাড়ীর ব্যবসা, ব্রাউন সুগারের মতো আরো দুই নম্বরী কয়েকটি ব্যবসা রয়েছে বলে অভিযোগ।এতগুলি ব্যবসার কাজ সেরে স্কুলে যাওয়ার সময় পান না দীপকবাবু। উনার স্ত্রী দেবিকা সাহা আরো কয়েক গুন বেশী ব্যবসায়ী। ফলে দুই নম্বরী ব্যবসার পয়সার ঠেলায় বাংলাদেশ থেকে একমাত্র ছেলে দীপঙ্কর সাহাকে ডাক্তারের ডিগ্রি করিয়ে আনেন দীপক বাবু।
বুধবার হঠাৎ করে পুলিশ ভর্তি একটি গাড়ী দুর্গাপুরের দীপক সাহার বাড়ীর সামনে থামতেই হতচকিত হয়ে পড়েন পাড়া পড়শিরা। দীপকবাবুকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকেই একটি ইকো গাড়ী বের করে দীপকবাবুকে নিয়ে পুলিশ দলটি সোজা নারায়ণপুরস্থিত দীপক বাবুর পান দোকানে চলে যান। ততক্ষনে দোকানের সামনে পুলিশ, টিএসআর এবং উৎসুক জনতার ভীড় জমে যায়। দীপক সাহাকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের দলটি দোকানের ডিপ ফ্রিজ খুলতেই একটি ট্রলী ব্যাগ দেখতে পান এবং ঐ ট্রলী ব্যাগে কি রয়েছে পুলিশ জানতে চাইলে শিক্ষক তথা দোকানের মালিক দীপক সাহা সব ঘটনা উগরে দেন। পুলিশ ট্রলী ব্যাগটি উদ্ধার করে আগরতলার ইন্দ্রনগরের নিখোঁজ হওয়া আলমগীর মিয়ার বছর ২১-এর ছেলে শরীফুল মিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং দীপক সাহাকে গ্রেপ্তার করে সিল করা হয় দোকানটিকে। ফরেন্সিক টিমের উপস্থিতিতে গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়। যতটুকু জানা গিয়েছে নারী সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দীপক সাহার ডাক্তার ছেলে দীপঙ্কর সাহা তার মা এবং তার বন্ধু বান্ধবীকে নিয়ে মোট পাঁচ জন মিলে আগরতলার জামতলায় উক্ত হত্যা কান্ডটি সম্পন্ন করে। এরপর ৯ই জুন কোন এক সময়ে শিক্ষক দীপক সাহা ঐ মৃতদেহটি নিজের ইকো গাড়ী করে আগরতলা থেকে গন্ডাছড়ায় এনে নিজ দোকানের ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখে। উক্ত হারহিম করা বিরল ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই গোটা মহকুমায় চরম চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক দেখা সৃষ্টি হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*