গোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ জুলাই || খোয়াই জুড়ে নেশার কারবারিদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পৃথক পৃথক তিনটি অভিযানে ব্রাউন সুগার সহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কারবারি ও সেবনকারীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার খোয়াই জেলার অন্তর্গত পূর্বরামচন্দ্রঘাটস্থিত ইন্দিরা কলোনিতে ব্রাউন সুগারের ভান্ডারের সন্ধান পায় পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খোয়াই থানার পুলিশ পূর্ব রামচন্দ্র ঘাটের ইন্দিরা কলোনি এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার উপর, ১১ গ্রাম ব্রাউন সুগার সহ অন্যান্য নেশা সামগ্রী উদ্ধার হয়। যদিও মূল অভিযুক্ত সুশঙ্কর আচার্য্য (ওরফে টিঙ্কু), বাড়ির মালিক পলাতক, তবে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের বাকিদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
এদিকে খোয়াই থানাধীন জিপ স্ট্যান্ড এলাকা থেকে দুই নেশা কারবারিকে জালে তুলল পুলিশ। আজ সকাল আনুমানিক দশটা নাগাদ খোয়াই জিপ স্ট্যান্ড এলাকায় সুভাষ পার্ক আউটপোস্ট এবং সাদা পোশাকের পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। আউটপোস্টের ওসি রঞ্জিত সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে দুই ড্রাগস কারবারি—সঞ্জয় ওরাং এবং সুজন তাঁতিকে হাতেনাতে ধরা হয়। তাদের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সোনাতলা এলাকা থেকে চারজন ড্রাগস সেবনকারীকে আটক করে পুলিশ। ধৃতদের নাম সোহেল দেববর্মা, জোশান দেববর্মা, বিকাশ দেববর্মা এবং পন্ডি দেববর্মা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের সকলের বয়স ২০-র কোঠায়। পুলিশের এই লাগাতার ধরপাকড় সত্ত্বেও খোয়াই জুড়ে নেশার রমরমা কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও অভিভাবক মহল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যদিও খোয়াই জেলার নতুন এসপি রাণাদিত্য দাসের দায়িত্বভার গ্রহনের পর থেকে খোয়াইজুড়ে নেশা কারবারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধরপাকড় দেখে জনমনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। যদিও এর ধারাবাহিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নেশার সাম্রাজ্যে মাষ্টার মাইন্ডদের বগলদাবা না করতে পারলে, এই ধরপাকড়ে যে সমাধান মিলবেনা তাতেও জনগণ নিশ্চিত।
