চাকুরির আশায় বসে না থেকে পদ্মফুল চাষে সফল রূপঙ্কর, কৃষিদপ্তরের সহযোগিতা ছাড়াই গড়ে তুললেন ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৫ আগস্ট || শান্তিরবাজার মহকুমার বেতাগা বাসুদেব দাস পাড়ার যুবক রূপঙ্কর দেবনাথ প্রমাণ করে দিলেন—ইচ্ছাশক্তি থাকলে সফলতা অর্জন সম্ভব, তাও আবার সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই। বগাফা কৃষি দপ্তরের আওতাধীন এই এলাকায় নিজ উদ্যোগে পদ্মফুল চাষ করে আজ তিনি আর্থিক দিক থেকে হয়েছেন সাবলম্বী।
প্রথাগত শিক্ষা গ্রহণের পর বহু যুবকের মতো রূপঙ্করও একসময় সরকারি চাকরির আশায় বসে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন পর চাকরির কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় নতুনভাবে জীবন গড়ার পথ খুঁজতে শুরু করেন তিনি। কলকাতায় বি.এড. পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রথমবার পদ্মফুল চাষের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ফিরে আসেন নিজ গ্রামে। এরপর ইউটিউব থেকে নানা ভিডিও দেখে ও নিজস্ব উদ্যোগে ২ কানি জমিতে শুরু করেন পদ্মফুল চাষ।
হায়দ্রাবাদ, কলকাতা, কেরল সহ দেশের পাঁচটি রাজ্য থেকে সংগ্রহ করেন ১০ প্রজাতির পদ্মফুলের বীজ। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজের খরচে পদ্মচাষ চালিয়ে যান তিনি। কৃষিদপ্তরের কোনো ধরনের সহায়তা তিনি পাননি বলে অভিযোগ করেন। বগাফা কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক রাজীব সেন কিংবা দক্ষিন জেলার কৃষি আধিকারিক সুমিত কুমার সাহা কেউই অবগত নন রূপঙ্করের এই পদ্মচাষ সম্পর্কে।
অভিযোগ উঠছে, কৃষি দপ্তরের কিছু কর্মী দায়িত্ব পালনের বদলে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধিতেই বেশি আগ্রহী। যেমন বেতাগা কৃষি কার্যালয়ের কর্মী অজয় সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রকৃত কৃষকদের বদলে নিজের পরিচিতদের নামে স্কিমের টাকা দিয়ে থাকেন এবং সেখান থেকে নিজ পকেটে অর্থ তুলে নেন। এই দুর্নীতির শিকারে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে। লোকমুখে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, এসব অনৈতিক উপার্জনের অংশ বিশেষ দপ্তরের উচ্চপদস্থ দুই আধিকারিকের পকেটেও পৌঁছায়।
এই পরিস্থিতিতে কৃষিদপ্তরের দৃষ্টি ও সহায়তার বাইরে থেকেও রূপঙ্কর নিজের সাধনা ও অধ্যবসায়ে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তা গোটা শান্তির বাজার মহকুমার কৃষকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত।
রূপঙ্কর জানান, মনসা পূজা ও দুর্গাপূজার সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকার পদ্মফুল বিক্রি হয়ে যায়। অন্যান্য সময়ে উদয়পুরের মাতারবাড়ী মন্দিরে পাইকারি দরে প্রতি ফুল ১০ টাকায় বিক্রি হয়, আর পূজার সময় একেকটি ফুল বিক্রি হয় ৫০ টাকায়।
রূপঙ্করের মতে, যদি কৃষিদপ্তর ও সরকারের তরফে সহযোগিতা মিলতো, তাহলে পদ্মচাষের বিস্তার অনেকগুণ বাড়ানো সম্ভব হতো। তিনি রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়।
রূপঙ্কর দেবনাথ রাজ্যের বেকার যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, “চাকুরির আশায় বসে না থেকে বিকল্প কিছু করতে পারলে নিজেকে আর্থিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। আমি সেটাই করে দেখিয়েছি।”
এমন এক যুবকের সাফল্য শুধু প্রশংসাযোগ্যই নয়, বরং তা অনেকের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে, যদি সরকার সময়মতো পাশে এসে দাঁড়ায়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*