সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০৮ আগস্ট || তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত হাওয়াই বাড়ি নাকা পয়েন্টে পুলিশের এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও অবৈধ হয়রানির অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার সকালে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগের তীর তেলিয়ামুড়া থানার কনস্টেবল বিশ্বজিৎ মালাকারের দিকে, যিনি ডিউটিরত অবস্থায় নাকা পয়েন্টে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সব্জি বোঝাই যানবাহনের চালক ও সব্জি ক্রেতাদের কাছ থেকে ওভারলোডের অজুহাতে বেআইনিভাবে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্ত কনস্টেবল এক পর্যায়ে আইনগত জরিমানা না দিলে ১০০, ২০০ বা ৩০০ টাকা করে ‘প্রণামী’ দেওয়ার ফরমান জারি করেন। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন চালক ও ব্যবসায়ীরা। তারা একত্রিত হয়ে অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক পান্নালাল সেন ও তেলিয়ামুড়া থানার ওসি জয়ন্ত কুমার দে। তারা বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হাওয়াই বাড়ি নাকা পয়েন্টে একটি নির্দিষ্ট অংশের পুলিশকর্মীরা এধরনের তোলাবাজিতে লিপ্ত। সব্জি ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অহেতুক আইন দেখিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল বিশ্বজিৎ মালাকারের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই দপ্তরীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে চলেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, পুলিশ প্রশাসন যেন দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে এমন হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
