বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৯ আগস্ট || মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ভগবানের রূপ ধারণ করে তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের নতুন জীবন দিচ্ছেন। অর্থাভাবে বহিঃরাজ্যে চিকিৎসা করাতে না পারা অসংখ্য দরিদ্র রোগী এখানেই সুস্থ হয়ে উঠছেন, আর এই নিঃস্বার্থ সেবার পেছনে রয়েছেন একদল নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মী।
সম্প্রতি জেলার প্রত্যন্ত এলাকা কোয়াইফাং এডিসি ভিলেজের বাসিন্দা কুলবতী রিয়াং মধুমেহজনিত কারণে পায়ের অ্যাকিলিস টেন্ডনে গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন তিনি হাঁটতে অক্ষম ছিলেন এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছিল পুরো পায়ের নিচের অংশে। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক ডাঃ সঞ্জয় ত্রিপুরা তার সার্জিক্যাল ডেব্রাইডমেন্ট করে ক্ষত পরিষ্কার করেন। পরবর্তী চিকিৎসা হিসেবে প্লাস্টিক সার্জারি ও টেন্ডন ট্রান্সফার প্রয়োজন হলেও রোগীর পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ডাঃ সঞ্জয় ত্রিপুরার তত্ত্বাবধানে ওটি টেকনিশিয়ান শ্রী বিশ্বজিৎ দত্ত নিয়মিত ও বিজ্ঞানসম্মত ড্রেসিং শুরু করেন। প্রায় দুই মাস ধরে ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে ড্রেসিং করার ফলে রোগীর ক্ষতস্থান ধীরে ধীরে ভরে ওঠে এবং তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে সক্ষম হন।
ডাঃ সঞ্জয় ত্রিপুরা জানান, শ্রী বিশ্বজিৎ দত্তের নিপুণতা ও অধ্যবসায় ছাড়া এ সাফল্য সম্ভব হতো না। নাহলে পুরো টেন্ডনে পচন ধরার আশঙ্কা ছিল। অতীতেও তিনি বহু রোগীর সেবায় সমান দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই শান্তির বাজার মহকুমার সাধারণ মানুষ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিঃস্বার্থ সেবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
