টাইমস অব ইন্ডিয়া’র চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে মাথায় হাত অভিভাবকদের, ত্রিপুরায় উদ্বেগজনক ট্রাইগ্লিসারাইড: ৫-৯ বছর বয়সী ৪৬.৪% শিশুর রক্তে উচ্চ মাত্রা, ত্রিপুরার স্থান দেশের মধ্যে চতুর্থ

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৬ সেপ্টেম্বর || সম্প্রতি ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র প্রকাশিত ‘চিল্ড্রেন ইন ইন্ডিয়া, ২০২৫’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ত্রিপুরায় শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রিপুরার ৫-৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৪৬.৪% উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডের সমস্যায় ভুগছে, যা রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনটি নির্দেশ করছে যে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সমস্যা প্রকট। যদিও পশ্চিমবঙ্গ ৬৭% নিয়ে শীর্ষে, এরপরই রয়েছে সিকিম (৬৪.৬%), অসম (৫৭%), নাগাল্যান্ড (৫৫.৫%) এবং মণিপুর (৫৪.৭%)। ত্রিপুরার ৪৬.৪% এই তালিকাভুক্ত রাজ্যগুলির মধ্যেই দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থানে পড়ছে, যা এই রাজ্যের শিশুদের স্বাস্থ্যের অবনতির এক পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে। অন্যদিকে, কেরালায় এই অনুপাত সর্বনিম্ন, মাত্র ১৬.৬%।
রিপোর্টে উঠে এসেছে, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ এটি পরবর্তীতে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সনাক্ত না হয় এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যেমন খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি, শুরু না করা হয়, তবে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, ১০-১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডের অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম। এই বয়সের শিশুদের মধ্যে ভারতে মাত্র ১৬% উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডে আক্রান্ত এবং ৪% এরও কম শিশুর উচ্চ LDL (খারাপ কোলেস্টেরল) রয়েছে। যদিও এই বয়সের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গ ৪২.৫% নিয়ে শীর্ষে, এরপর রয়েছে সিকিম (৩৯.৪%) এবং মণিপুর (৩৮%), যেখানে মহারাষ্ট্রে এই অনুপাত সর্বনিম্ন (৬.৪%)। ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চ LDL কোলেস্টেরল ধমনীর দেওয়ালে প্লাক তৈরির কারণ হতে পারে, যা পরবর্তীতে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস এবং ধমনী সরু হয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
ত্রিপুরা রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে অভিভাবকদের তরফ থেকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শিশুদের মধ্যে উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডের প্রবণতা রোধ করা যায় এবং তাদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*