একদিনে পেঁয়াজের মূল্য ২০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় পৌঁছল! পেঁয়াজ-রসুন পাচার হচ্ছে বাংলাদেশ! খাদ্য দপ্তর ঘুমে!

গোপাল সিং, খোয়াই, ২০ ডিসেম্বর || মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খোয়াইয়ে পেঁয়াজের দামে অস্বাভাবিক লাফ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। গত ১৮ই নভেম্বর যেখানে পেঁয়াজের খুচরো মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা, সেখানে একদিন না পেরোতেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকায়। খোয়াই পুর এলাকার বাইরে গ্রামীণ বাজারগুলিতে পেঁয়াজের দাম আরও চড়া—৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ৩৭ থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা হয়েছে এবং বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ ভোক্তারা। জনগণের অভিযোগ, খাদ্য দপ্তরের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নতুন পেঁয়াজ ৪৩–৪৫ টাকার বেশি দামে বিক্রি হওয়ার কথা নয়। অথচ ‘নতুন পেঁয়াজ’ তকমা সাঁটিয়ে পুরনো পেঁয়াজই চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে।
এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পেঁয়াজ ও রসুন অবৈধভাবে ত্রিপুরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার হচ্ছে। এই পাচারের জেরেই স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। অথচ এই অবৈধ কারবার রুখতে খাদ্য দপ্তরের কার্যকর কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না বলেই অভিযোগ জনসাধারণের।
খোয়াই শহরের বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ভোক্তারা। তাদের দাবি, শহরের দু-একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর হাতেই কার্যত পুরো বাজার নিয়ন্ত্রিত। তাদের ইচ্ছেমতোই পণ্যের দাম ওঠানামা করছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
শুধু পেঁয়াজ নয়, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও ঊর্ধ্বমুখী। চিনি শহর এলাকায় কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গ্রামীণ বাজারে তা ৭০–৮০ টাকায় পৌঁছেছে। রেশন ব্যবস্থায় ডালের জোগান নেই বললেই চলে, অথচ খোলা বাজারে শহরে ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০–১৫০ টাকায় এবং গ্রামীণ এলাকায় ১৬০–১৭০ টাকা কেজি দরে। রান্নার তেলের দাম শহরে ১৮০–১৯০ টাকা হলেও গ্রামে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০–২১০ টাকায়।
সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের এই লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। জনগণের অভিযোগ, অবৈধ কারবার ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের সামনে খাদ্য দপ্তর কার্যত নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলেই আশঙ্কা খোয়াইবাসীর।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*