কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টাগা নেতৃত্বে রাষ্ট্রবাদী আধিকারিক বসানোর দাবি

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৬ জানুয়ারি || ত্রিপুরা এগ্রিকালচার গ্রাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন (টাগা)-এর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সোমবার, ৫ জানুয়ারি। গত বছরের এই দিনেই সংগঠনের নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ায় টাগার নতুন কমিটি গঠন নিয়ে ইতিমধ্যেই সংগঠনের সদস্যদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরে এখনও বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী একাংশ আধিকারিকের প্রভাব যথেষ্ট রয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাই নতুন করে সক্রিয় হয়ে সংগঠনের দায়িত্বভার গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

তবে টাগা শুধুমাত্র কৃষিস্নাতক কিংবা কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরে কর্মরত আধিকারিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সংগঠনের দিকে রাজ্যের বুদ্ধিজীবী মহল, শিক্ষিত সমাজ এবং সচেতন কৃষকদের একটি বড় অংশের দৃষ্টিও নিবদ্ধ রয়েছে। কারণ রাজ্যের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি, আর সেই কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন এই দপ্তরের আধিকারিকরা।

বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশের মতে, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকদের সংগঠনের নেতৃত্ব যদি সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হাতে না থাকে, তাহলে তার প্রভাব শুধু দপ্তরের কাজকর্মে নয়, সরাসরি মাঠ পর্যায়ে সাধারণ কৃষকদের উপর পড়বে। এতে কৃষি ব্যবস্থার ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।

বর্তমানে দেশ ও রাজ্যে রাষ্ট্রবাদী সরকারের শাসন চলছে। সরকারের বিভিন্ন কৃষি-বান্ধব নীতির ফলে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকরাই। সরকারের নেওয়া প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত মাঠে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব তাঁদের ওপরেই বর্তায়।

এমন পরিস্থিতিতে যদি সংগঠনের নেতৃত্ব এমন ব্যক্তিদের হাতে চলে যায়, যাঁরা মানুষের কল্যাণের বদলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে বেশি আগ্রহী, তাহলে তার ফলে সরকার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনই ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের। অভিযোগ উঠেছে, এখনও দপ্তরে থাকা বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু আধিকারিক সরকারের ক্ষতি করতে গিয়ে কার্যত জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধেই কাজ করছেন।

এই প্রেক্ষাপটে কৃষি দপ্তরের একাংশ আধিকারিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের মত, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টাগার নেতৃত্বে রাষ্ট্রবাদী চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে বিশ্বাসী একজন নেতৃত্বে থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের আহ্বান, নতুন কমিটি গঠনের সময় যেন ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ নয়, বরং কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*