গোপাল সিং, খোয়াই, ১১ জানুয়ারি || না, রাস্তার কাজ হচ্ছে গুনগতমান বজায় রেখেই। চেবরী থেকে গারুবাড়ি ভায়া পেক্নিছড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে এলাকায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া উঠে আসছে। স্থানীয় নারী-পুরুষ, বয়স্ক নাগরিক ও সাধারণ মানুষের একবাক্য দাবি— রাস্তাটির কাজ সম্পূর্ণ গুণগতমান বজায় রেখেই করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, বিগত বাম আমলে এই সড়কের অবস্থা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের অযোগ্য। বর্তমানে কল্যাণপুর–প্রমোদনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আধুনিক পদ্ধতিতে রাস্তাটির পুনর্নির্মাণ চলছে।
এলাকাবাসীরা জানান, পেভার ফিনিশার মেশিন ব্যবহার করে কাজ হওয়ায় রাস্তায় সমান থিকনেস ও মজবুত কাঠামো নিশ্চিত করা হচ্ছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে এই সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল এবং বর্তমান কাজের মান তাদের প্রত্যাশা পূরণ করছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার অমিত দাস কারিগরি দিক ব্যাখ্যা করে বলেন, রাস্তাটির কাজ সম্পূর্ণ পেভার ফিনিশার মেশিনের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এই মেশিনে থিকনেস ও ফিনিশিং আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, ফলে কাজের গুণগতমান কম-বেশি করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, প্রথমে পুরনো রাস্তার ওপর প্রাইম কোট বা তেল প্রয়োগ করা হয়, এরপর বিটুমিন লেয়ার দেওয়া হয়। তার ওপর পেভার মেশিনের সাহায্যে নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী কংক্রিট ও পাথর বসানো হয় এবং শেষে পুনরায় বিটুমিন লেয়ার দিয়ে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সরকারি নিয়ম ও মানদণ্ড মেনেই হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রায় ৪ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই সড়কে মেটালিং, কার্পেটিংসহ সমস্ত ধাপ নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রাও নিশ্চিত করেছেন।এদিকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে এলাকার বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরী জানান, এত উন্নতমানের রাস্তার কাজ হওয়া সত্ত্বেও যদি প্রশ্ন ওঠে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি একাধিকবার নিজে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন এবং কোথাও অসন্তোষজনক কিছু চোখে পড়েনি বলে দাবি করেন। বিধায়ক আরও জানান, এই প্রকল্পে তিনটি লেয়ারে রাস্তার কাজ হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ১২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এলাকাবাসীর দাবিতে তা আরও বাড়িয়ে প্রায় ১৫০ মিটার অতিরিক্ত ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে, নির্ধারিত ৬ হাজার বোল্ডারের পরিবর্তে রাস্তার স্বার্থে আরও এক হাজার বোল্ডার ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তার প্রস্থ নির্ধারিত ছিল ৩.৭৬ মিটার, কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় তা বাড়িয়ে প্রায় ৪ মিটার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিধায়কের কথায়, পেভার মেশিনে কাজ হওয়ায় হাতে ধরে অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ নির্দিষ্ট মাপ ও মান বজায় রেখেই প্রয়োগ করা হচ্ছে, যার প্রমাণ রাস্তাটির সমান থিকনেস ও ফিনিশিং। জনগণের করের টাকা জনগণের স্বার্থেই ব্যয় করা হচ্ছে এবং এলাকার মানুষই এই কাজের গুণগতমানের প্রশংসা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, তিনি মিডিয়ার কাছে প্রকৃত ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আবেদন জানান।
