সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৩ জানুয়ারি || দীর্ঘদিনের পরিচিত জাঁকজমক যেন এবছর আর চোখে পড়েনি তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাটে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি মেলায়। মেলার শুরু থেকেই একাধিক অব্যবস্থা ও অসংগতি নজরে আসে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চর্চা।
মেলায় প্রবেশ করতেই প্রথমে চোখে পড়ে ফ্লেক্স ও নিমন্ত্রণপত্রে একাধিক বানান ও তথ্যগত ভুল। আরও বিস্ময়কর বিষয় হল, তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্ভুক্ত তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় এবং কল্যাণপুরের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরীর নাম নিমন্ত্রণপত্রে অনুপস্থিত থাকা। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হলেও, এর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
মেলায় আগত একাধিক দোকানদার অভিযোগ করেন, মেলা কমিটি ও পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হয়। এর ফলে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেননি এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চের সামনেও দেখা যায় হতাশাজনক চিত্র। দীর্ঘ সময় ধরে চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। যেখানে উদ্বোধক সহ অতিথির সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ জন, সেখানে দর্শকসংখ্যা ছিল হাতে গোনা।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে পুরোহিত ও নাপিতদের। তাঁদের জন্য কোনও উপযুক্ত বসার বা ছাউনি ব্যবস্থার অভাবে খোলা আকাশের নিচেই বসে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হয়েছে।
তবে এই সমস্ত অব্যবস্থার মাঝেও অন্যান্য বছরের মতো এবছরও বহু পুণ্যার্থী তাঁদের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে চাকমাঘাটে ভিড় জমান।
মেলার উদ্বোধক তথা রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা জানান, আগামী বছর থেকে এই ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি মেলাকে দুই দিনব্যাপী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আরও বৃহৎ পরিসরে ও সুশৃঙ্খলভাবে মেলার আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
