গোপাল সিং, খোয়াই, ২৫ জানুয়ারি || রবিবার গৌরাঙ্গটিলা দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো হিন্দু সম্মেলন ২০২৬। সনাতনী রীতি-নীতি ও ধর্মীয় আচার মেনে আয়োজিত এই সম্মেলনে চেবরীখন্ড ও কল্যাণপুর খন্ড থেকে বিপুল সংখ্যক সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ছিল। ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐক্যের বার্তায় সারাদিন মুখর ছিল গোটা এলাকা।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা ভারত সেবাশ্রম সংঘের বোধিসত্তানন্দজি মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কল্যাণপুর-প্রমোদনগর কেন্দ্রের বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরী, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সমাজসেবী সমীর কুমার দাস, অনুকুল দাস, অনিমেষ নাগ প্রমুখ। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কল্যাণপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্মল চৌধুরী, স্বয়ংসেবক সংঘের সিপাহীজলা জেলার কার্যবাহ কমল দাস, হিন্দু সম্মেলন আয়োজন সমিতির সভাপতি ক্ষিতিশ দাস, সম্পাদক পঙ্কজ দত্ত সহ অন্যান্য অতিথিরা।
বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরী তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আগরতলা ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রধান অতিথি বোধিসত্তানন্দজি মহারাজসহ বহু বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সম্মেলন সনাতন ধর্মের আদর্শ ও ঐক্যের বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। চেবরীখন্ড ও কল্যাণপুর খন্ডের অসংখ্য সনাতনী ভক্তের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক করে তুলেছে। ধর্ম, ঐক্য ও মানবতার পথে সবাই এগিয়ে চলুক—এই কামনাই তিনি ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য সনাতন ধর্মের চিরন্তন আদর্শ ও মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং সমাজে হিন্দু ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করা। যুগ যুগ ধরে সনাতন ধর্ম সহনশীলতা, নৈতিকতা, মানবতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের শিক্ষা দিয়ে এসেছে, যা একটি সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি। ধর্মীয় ও সামাজিক এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ঐক্যবোধ জাগ্রত করে এবং বিভেদ ভুলে সবাইকে একসূত্রে বাঁধতে সহায়তা করে।
জনগণের মতে, গৌরাঙ্গটিলার এই হিন্দু সম্মেলনে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে—হিন্দু সমাজ আর নীরব নয়। ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতীয় গৌরব রক্ষায় সবাই ঐক্যবদ্ধ। আজকের এই সমাবেশ ইতিহাসের নতুন সূচনার ইঙ্গিত বহন করছে। সম্মেলন মঞ্চ থেকে হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে মর্যাদার সঙ্গে ধারণ করার বার্তা দেওয়া হয়।
