গভীর রাতে ৬-৭টি দোকানঘর পুড়ে ছাঁই, নাশকতামুলক না ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিকান্ডের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন এলাকাজুড়ে

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৯ ফেব্রুয়ারী || বুধবার মধ্য রাতে পুড়ে ছাঁই হলো ৬-৭টি দোকানঘর। কিন্তু এই আগুন লাগার কারণ নিয়ে উঠছে নানাহ প্রশ্ন। গুঞ্জন অব্যহত। এই গুঞ্জনের মধ্যেই কিছু বিষয় স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন হিসাবে ঘুরপাক খাচ্ছে।
জনগণের মতে, প্রথমত খোয়াই অফিসটিলা চত্বর আধুনিকতার ছুঁয়ায় সেজে উঠেছে। এখন আর মান্ধাতা আমলের চেহারায় নেই। বড়ো বড়ো বিল্ডিং এখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। বহু পুরনো এই দোকানঘরগুলি আজ এই নতুন চেহারার সাথে বড্ড বেমানান। কিছু দোকান ঘরের চেহারা অস্তিত্বের লড়াই করা ভাঙা রূপ। ছিল একাধিক মুদি দোকান, পান-সুপারি বিক্রেতা, অটো স্পেয়ার পার্টসের দোকান, বিউটি পার্লার,লন্ড্রি থেকে প্রিন্টিং প্রেস। কারোর কারোর হয়তো সঠিক কাগজপত্রও নেই। জনগণের সন্দেহ হতে পারে এটা ঐ বেমানান দোকানীদের উচ্ছেদের জন্যই ঘটে থাকতে পারে। আবার জনগণের মতে, যেহেতু সামনেই চৈত্র মাস, মানে দেনা-পাওনার মাস আসন্ন, তাই দোকানীদের মধ্যেও কারোর মধ্যে এর থেকে রেহাই পাবার প্রবনতা থাকতে পারে। সবটাই কৌতুহল আর গুঞ্জনের রূপেই রয়েছে। কারণ অগ্নিকাণ্ডের আসলরহস্য এখনও অধরা।
নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী পরিবারগুলি। কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, কেউ আবার আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানের ধ্বংসাবশেষের সামনে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সরকার কি এই সর্বস্ব হারানো মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবে? অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য কি উদঘাটন হবে? কিন্তু এসব প্রশ্নের মাঝেই গতকাল মধ্যরাতে যখন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল, তখন এলাকাবাসী শুধু নয়, দমকল কর্মীরাই নয়, খুদ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডি কুদিয়ারাসুকেও আগুন নেভানোর কাজে লিপ্ত হতে দেখে খোয়াইয়ের মানুষজন প্রশংসা করছেন।
বুধবার গভীর রাতে খোয়াই শহরের অফিসটিলা সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬–৭টি (স্থানীয় সূত্রে আরও বেশি) দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। জানা গেছে, রাত প্রায় ১২টা নাগাদ আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত তা আশেপাশের দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে খোয়াই অগ্নি দপ্তরের তিনটা গাড়ি এবং কল্যানপুর অগ্নি দপ্তরের দুইটা গাড়ি মোট পাঁচটি গাড়ি এসে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভানোর কাজে ত্রিপুরা পুলিশও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে। ‘বরুন’ নামক একটি জলকামান আগুন নিয়ন্ত্রনে শেষ অবধি কাজে লাগানো হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, যদিও কোনও প্রাণহানির খবর নেই।ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডি কুদিয়ারাসু, যিনি নিজেও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এখন দেখার বিষয়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য কত দ্রুত উদঘাটিত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে প্রশাসন কতটা এগিয়ে আসে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*