গবাদী পশু পাচারচক্রে গভীর রাতে পুলিশের থাবা: দ্বিতীয় ‘মাস্টারমাইন্ড’ গ্রেপ্তার, জেরার মুখে বাংলাদেশী পান্ডাদের নাম প্রকাশ্যে

গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ মার্চ || বাংলাদেশের গবাদি পশুর পাচার চক্রের মূল পান্ডাদের সাথে ভারতীয় পাচারকারীদের যোগসাজশ। খোয়াই থানায় রিমান্ডে থাকা সুমন সূত্রধরের মোবাইলে মিলেছে বাংলাদেশের পান্ডা আমরুট বাজার এলাকা নিবাসী সত্বর মিয়া ও রুবেল মিয়ার সন্ধান। নিয়মিত বাংলাদেশের পান্ডাদের সাথে যোগাযোগ ছিল খোয়াইয়ের সুমন সূত্রধরের। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তারই মোবাইলে ওয়াটসআপ চ্যাট থেকে। আগেকার সময়ে খোয়াইয়ের জনগণের কাছে বাংলাদেশী গবাদী পশু পাচার চক্র ছিল বিভীষিকা। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় পাচার চক্রের বিশাল বড়ো নেটওয়ার্ক। বিশেষ করে খোয়াই, রামচন্দ্রঘাট, বারবিল, বেলছড়া, বাগানবাজার, পূর্ব সিঙ্গিছড়ায় বড়ো নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। খোয়াই শহরেও লুকিয়ে আছে কিছু মুল পান্ডা। যদিও পুলিশ মুভমেন্ট করলেও, বিএসএফ কিন্তু গোটা বিষয়ে নীরব ভুমিকা পালন করে চলছে।
এদিকে গবাদী পশু চুরি ও সীমান্তপাচার চক্র ভাঙতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল খোয়াই থানার পুলিশ। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে চাম্পাহাওড় সীমানায় লুধিপাড়া হিল থেকে ওসি কৃষ্ণধন সরকার-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ধৃত সুমন সূত্রধরকে জেরা করে চক্রের আরও এক ‘মাস্টারমাইন্ড’-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেস নং ০৯/২০২৬ (তারিখ ২৮/০২/২০২৬), ধারা ৩০৩(২)/১২১(১)/১৩২/৬১(২) ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং ১১(১)(ক) ‘প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস অ্যাক্ট’ মামলায় রিমান্ডে থাকা গবাদিপশু পাচারকারী সুমন সূত্রধরের বিস্তারিত জেরার ভিত্তিতে চম্পাহাওর সীমান্তের লুধিপাড়া পাহাড় এলাকা থেকে গভীর রাতে এক কুখ্যাত পশু চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া পাচারকারীর নাম রিকান্ত খদাল দাস। পুলিশ জানায়, সে খোয়াই থানার আরেকটি মামলা (কেস নং ৭৪/২০২৪, তারিখ ০৮/১১/২০২৪; ধারা ৩০৩/১০৯/৩(৫) BNS)–তেও গবাদী পশু চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ও চার্জশিটভুক্ত ছিলো।
উল্লেখ্য, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে চুরি হওয়া ৬টি গবাদী পশু এই মামলায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই গবাদী পশুর মালিক থানায় এসে নিজেদের পশু শনাক্ত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রিকান্ত খদাল দাসকে রিমান্ডে নিয়ে এবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে চক্রের বাকি সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা যায়। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*