নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ২৫ মার্চ || প্রথমবারের মতো সাব্রুম মহকুমার সাতচাঁদ এলাকায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত হলো বাসন্তী পূজা। এলাকার কিরণ বণিকের বাসভবনে এই বিশেষ পূজার আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ ও ভক্তিভাব লক্ষ্য করা গেছে।
বাসন্তী পূজা মূলত চৈত্র মাসের নবরাত্রি উপলক্ষে পালিত হয় এবং একে বসন্তের দুর্গোৎসব বলেও অভিহিত করা হয়। অনেকের মতে, এটিই আসল দুর্গাপূজা। ত্রিপুরার মানিক্য রাজবংশের আমল থেকেই এই পূজার প্রচলন রয়েছে, বিশেষ করে আগরতলার দুর্গাবাড়িতে এটি রাজকীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকা ও মহকুমা স্তরেও মন্দির এবং গৃহে এই পূজার আয়োজন হয়ে থাকে।
সাব্রুম মহকুমায় বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে বাসন্তী পূজার বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। পুরনো মন্দির এবং পারিবারিক দেব-দেবীর রূপে দেবী বাসন্তীর আরাধনা এখানে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করছে। এই অঞ্চলের বাসন্তী পূজার নিজস্ব সংস্কৃতি ও বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যায়।
এ বছর ২৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বাসন্তী পূজা চলবে ২৮ মার্চ পর্যন্ত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বসন্তকালের এই পূজায় দেবীর আগমন হয় নৌকায় এবং বিদায় হয় হাতির পিঠে—যা ভক্তদের কাছে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
উল্লেখ্য, গতকাল মায়ের আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে পূজার সূচনা হয় এবং আজ নবদুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে সপ্তমী পূজা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আয়োজক পক্ষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, ভবিষ্যতেও এই পূজাকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
