কফিনবন্দী মরদেহ ফিরল রাজ্যে, অশ্রুসিক্ত বিদায় সাংবাদিক প্রদীপ দেবনাথকে

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ এপ্রিল || অমরপুরের কর্মরত সাংবাদিক প্রদীপ দেবনাথের কফিনবন্দী মরদেহ আজ দুপুরে শিলিগুড়ি থেকে বিমানে করে আগরতলায় আনা হয়। বিমানবন্দরে নেমেই নেমে আসে শোকের ছায়া। সহকর্মী, সাংবাদিক ও সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে অশ্রুসিক্ত পরিবেশে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আগরতলা বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুনীল দেবনাথ, কোষাধ্যক্ষ সুভাষ ঘোষ সহ অন্যান্য সদস্যরা। সেখানে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে প্রয়াত সাংবাদিককে শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত সকলে।
এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আগরতলা প্রেস ক্লাবে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার, সম্পাদক রমাকান্ত দে এবং স্যন্দন পত্রিকার ডিরেক্টর অভিষেক দে সহ বিশিষ্টজনেরা মরদেহে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় উদয়পুরে। উদয়পুর প্রেস ক্লাবেও সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। নেতৃবৃন্দ প্রয়াত সহকর্মীকে শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে মরদেহ পৌঁছায় অমরপুর প্রেস ক্লাবে, যেখানে ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় সাংবাদিকরা অশ্রুসজল চোখে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শেষপর্যন্ত মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার নিজ বাড়িতে। আত্মীয়-পরিজন, এলাকাবাসী ও সহকর্মীদের উপস্থিতিতে গভীর শোকের আবহে সম্পন্ন হয় তার শেষকৃত্য।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিলিগুড়িতে গিয়েছিলেন প্রদীপ দেবনাথ। সেখানেই তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শিলিগুড়ি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল ভোরে তার মৃত্যু হয়।
মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন রাজ্য সরকারের কাছে সহায়তা চায়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে রাজ্য সরকার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এই সহযোগিতার জন্য অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকার, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং গোমতি জেলার জেলাশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
প্রদীপ দেবনাথের অকাল প্রয়াণে সাংবাদিক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*