আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ এপ্রিল || Central Agricultural University (CAU), ইম্ফলের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধে কৃষিক্ষেত্রে শক্তি সাশ্রয়ের আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং কৃষি উৎপাদনে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণা ভবিষ্যতের টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য এক বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক কৃষিতে ট্রাক্টর পরিচালনা, সেচ ব্যবস্থা, সার উৎপাদন ও ফসল সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। এই পরিস্থিতিতে গবেষকরা ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ বা নিখুঁত কৃষি পদ্ধতির ওপর জোর দিয়েছেন। জিপিএস, ড্রোন ও সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে সঠিক পরিমাণ সার, পানি ও কীটনাশক প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি ও উপকরণ সাশ্রয় করা যায়।
এছাড়াও, স্মার্ট সেচ ব্যবস্থার ব্যবহার—বিশেষ করে মাটির আর্দ্রতা সেন্সর ও ড্রিপ ইরিগেশন—পানির ব্যবহার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এবং শক্তি খরচ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। সৌর শক্তিচালিত পাম্প এবং ‘অ্যাগ্রিভোল্টাইক’ পদ্ধতির মাধ্যমে একই জমিতে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ‘কনজারভেশন টিলেজ’ বা কম চাষ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৬০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করা যায় এবং একই সঙ্গে মাটির গুণগত মানও উন্নত হয়। গ্রিনহাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে প্রায় ৩০ শতাংশ শক্তি সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে, কৃষি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে জ্বালানির চাহিদা পূরণ ও জৈব সার উৎপাদনের পথও সুগম হচ্ছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তিগুলির সমন্বিত প্রয়োগ কৃষিক্ষেত্রে শক্তি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটাতে পারে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা।
উল্লেখ্য, প্রবন্ধটি রচনা করেছেন এস. বেহেরা, এস. এন. চানু, কে. শর্মা, এন. দেবচন্দ্র ও টি. শান্তিবালা। গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের কৃষিকে আরও শক্তি-দক্ষ, পরিবেশবান্ধব এবং লাভজনক করে তুলবে।
