জাতীয় ডেস্ক, কলকাতা, ০৯ মে || কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড সাক্ষী থাকল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের। অগণিত মানুষের উপস্থিতি, কড়া নিরাপত্তা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৯ই মে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে আয়োজিত এই মহাসমাবেশ কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীক হয়ে উঠল।
রাজভবনের গণ্ডি পেরিয়ে জনসমুদ্রের মাঝে অনুষ্ঠিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই উচ্ছ্বাসে ভাসে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। রাজ্যপাল আর.এন. রবি নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। এর মধ্য দিয়েই দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জানান নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই শপথ গ্রহণ শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের সূচনা।
নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। শপথ গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। উন্নয়ন ও স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে নতুন বাংলা গড়ে তোলা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তাঁর মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্যও শপথ গ্রহণ করেন। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মুখকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়। নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা হলেন— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। শপথ গ্রহণের ক্রমানুসারে প্রথমে দিলীপ ঘোষ, তারপর অগ্নিমিত্রা পাল, মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি অশোক কীর্তনিয়া, আদিবাসী নেতা ক্ষুদিরাম টুডু এবং শেষে রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকার জনপ্রতিনিধি নিশীথ প্রামাণিক শপথ নেন।
সব মিলিয়ে ব্রিগেডের এই মহাসমাবেশ বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
