অভাবনীয় উদ্যোগে স্মৃতির আবেগঘন মিলনমেলা, এক ছাদের নিচে শান্তিরবাজার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ২০০৭ ব্যাচ

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৫ জুন || ব্যস্ত জীবনের শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও স্কুলজীবনের স্মৃতি কখনও হারিয়ে যায় না। সময়ের প্রবাহে জীবন অনেক দূর এগিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের সেই দিনগুলি, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত এবং শিক্ষকদের স্নেহমাখা স্মৃতি আজও হৃদয়ে অমলিন। সেই অমূল্য স্মৃতিকে আবারও জীবন্ত করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগে শান্তিরবাজার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ২০০৭ সালের মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা একত্রিত হলেন এক আবেগঘন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে।
রবিবার অনুষ্ঠিত এই বিশেষ মিলনমেলায় দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ায় উচ্ছ্বাস, আনন্দ ও আবেগে ভেসে যান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কেউ স্মরণ করেন শ্রেণিকক্ষের মজার ঘটনা, কেউ বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা কিংবা শিক্ষকদের স্নেহ-শাসনের নানা স্মৃতি। মুহূর্তের জন্য যেন সবাই ফিরে যান সেই সোনালি ছাত্রজীবনে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারাও তাঁদের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের বর্তমান অবস্থান ও সাফল্যের কথা জেনে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করছে, যা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
মিলনমেলাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে আয়োজকদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরতে এই কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলেই অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পুনর্মিলনী উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুরনো বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করা, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং আগামী দিনে সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে একযোগে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলা।
দীর্ঘদিন পর পুরনো বন্ধু ও শিক্ষকদের সঙ্গে কাটানো এই মূল্যবান মুহূর্তগুলো অংশগ্রহণকারীদের কাছে হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। ২০০৭ ব্যাচের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মিলনমেলা শুধু স্মৃতিচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আগামী দিনের জন্য ঐক্য, বন্ধুত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*