বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৫ জুন || দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ী এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটাতে গিয়ে দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে বাইখোড়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের কাছ থেকে একটি অটোরিকশাসহ গ্যাসের সিলিন্ডার, রাবার ও অন্যান্য চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে শান্তিরবাজার মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে। অভিযোগ, একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে নিশিকুটুম্বের দল রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন এলাকায় চুরি চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার গভীর রাতে জোলাইবাড়ীর মধ্যপিলাক এলাকার বাসিন্দা পুলক ভৌমিকের বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে একদল দুষ্কৃতী। বিষয়টি টের পেয়ে পুলক ভৌমিক ও এলাকার এক যুবক চোরদের পিছু ধাওয়া করেন। পরে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে জোলাইবাড়ী নাকা পয়েন্ট এলাকা থেকে টি আর-০৮-বি-৩৩১৩ নম্বরের একটি অটোরিকশাসহ দুইজনকে আটক করা হয় এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ধৃতরা হলেন তুলামুড়া এলাকার বাসিন্দা বাপন পাল এবং বাইখোড়ার মথুলা সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন দে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রের সঙ্গে বাইখোড়া এলাকার সজল মগসহ আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুরি শেষে জোলাইবাড়ীর শালবাগান এলাকায় জড়ো হয়ে চুরি করা সামগ্রী ভাগ-বাটোয়ারা করার কথা ছিল। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাইখোড়া থানার ওসি বিষ্ণু দাস জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে চোরের দলটি বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। তিনি আরও জানান, গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে বাইখোড়া থানা এলাকা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল বাংলাদেশে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় এই চক্রের সদস্যরা।
ওসি বলেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্ত করতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের আশা, খুব শিগগিরই বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে চুরি হওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় বাইখোড়া থানায় ১২ নম্বর মামলায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারে পুলিশ কত দ্রুত সফল হয়।
