টেক্সট মেসেজ প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এনপিসিআই-এর উদ্যোগ, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক থাকার আহ্বান, সন্দেহজনক এসএমএস ও লিঙ্ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৩ আগস্ট || দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার প্রতারণার ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে একটি সাধারণ টেক্সট মেসেজ বা এসএমএসকে হাতিয়ার করে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং টেক্সট মেসেজভিত্তিক প্রতারণা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)।
এনপিসিআই জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ আর্থিক প্রতারণার সূচনা হয় একটি সাধারণ এসএমএসের মাধ্যমে। প্রতারকরা এমন বার্তা পাঠায়, যা দেখে ব্যবহারকারীদের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি, ভয় কিংবা কৌতূহল তৈরি হয় এবং তারা যাচাই-বাছাই না করেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। এই ধরনের প্রতারণায় মূলত ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ কৌশল ব্যবহার করা হয়, যেখানে প্রযুক্তিগত দুর্বলতার পরিবর্তে মানুষের আবেগ, বিশ্বাস এবং অসতর্কতাকে কাজে লাগানো হয়।
সংস্থার মতে, টেক্সট মেসেজ প্রতারণা হল এমন একটি ভুয়ো এসএমএস, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে কোনও লিঙ্কে ক্লিক করা, ভুয়ো কাস্টমার কেয়ারে ফোন করা, অজানা অ্যাপ ডাউনলোড করা, OTP, UPI PIN বা পাসওয়ার্ডের মতো গোপন তথ্য শেয়ার করা কিংবা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অর্থ স্থানান্তর করতে প্রলুব্ধ করা হয়। অনেক সময় প্রতারকরা ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, টেলিকম পরিষেবা, কুরিয়ার বা ডেলিভারি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বার্তা পাঠায়, যাতে সেগুলি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। আবার কখনও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়, কখনও পুরস্কার, রিওয়ার্ড বা রিফান্ডের লোভ দেখিয়ে মানুষকে প্রতারণার জালে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
এই ধরনের প্রতারণা এড়াতে এনপিসিআই সাধারণ মানুষকে সব ধরনের এসএমএস ভালোভাবে পড়ে তবেই পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কোনও বার্তায় দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ অথবা কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শুধুমাত্র বিশ্বস্ত অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা, কোনও অবস্থাতেই OTP, UPI PIN বা পাসওয়ার্ড অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করা, সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং টাকা জমা হওয়ার মেসেজ পেলে অবশ্যই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট দেখে তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কোনও অ্যাপ ইনস্টল করার সময় তার অনুমতিগুলি ভালোভাবে যাচাই করে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার উপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এনপিসিআই আরও জানিয়েছে, যদি কেউ সন্দেহজনক এসএমএস পান বা প্রতারণার আশঙ্কা করেন, তাহলে সেই বার্তার স্ক্রিনশট ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করা উচিত। প্রয়োজনে জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে অথবা টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের সঞ্চার সাথী পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) এবং ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিএ) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দেশের খুচরো ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার শীর্ষ সংস্থা। ইউপিআই, রুপে, আইএমপিএস, এনএসিএইচ, এইইপিএস, ই-রুপি-সহ একাধিক আধুনিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার মাধ্যমে সংস্থাটি দেশের ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সচেতনতার গুরুত্বও বাড়ছে বলে উল্লেখ করে এনপিসিআই জানিয়েছে, সামান্য সতর্কতা ও সচেতনতাই টেক্সট মেসেজভিত্তিক প্রতারণা থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*