মাঠে সরকারের নজর, ফিল্ড ভিজিটে সচিব শশী কুমার; আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত উৎপাদক গোষ্ঠী

আপডেট প্রতিনিধি, দামছড়া, ০৩ আগস্ট || জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব শশী কুমার রবিবার উত্তর ত্রিপুরার দামছড়া আরডি ব্লক পরিদর্শন করেন। ত্রিপুরা রুরাল ইকোনমিক গ্রোথ অ্যান্ড সার্ভিস ডেলিভারি প্রজেক্ট (TRESP)-এর আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখে তিনি নির্ধারিত সময়ে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সচিবের সঙ্গে ছিলেন দামছড়া আরডি ব্লকের বিডিও, ধর্মনগরের এসডিএফও এবং TRESP-এর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। পরিদর্শনের সূচনায় বিডিও কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক পর্যালোচনা বৈঠকে প্রকল্পের অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সচিব প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কাজের মান ও সময়সীমা বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে তিনি পশ্চিম দামছড়া ভিলেজ কমিটির অধীন ভাংসাং ফিশারি প্রোডিউসার গ্রুপ পরিদর্শন করেন। সেখানে উৎপাদক গোষ্ঠীর রেকর্ডপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি মাছের পোনা সংগ্রহ কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বৈজ্ঞানিক ও টেকসই মৎস্যচাষের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এরপর সচিব থুমসারাইপাড়া ভিলেজ কমিটির খাসনাম এগ্রিকালচার প্রোডিউসার গ্রুপ পরিদর্শন করে আদা চাষের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন। একই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। উৎপাদক গোষ্ঠীর উদ্যোগ, নিষ্ঠা ও কর্মোদ্যমের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
সফর শেষে সচিব জানান, TRESP প্রকল্পের মাধ্যমে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় টেকসই জীবিকায়ন, কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক গ্রামীণ উন্নয়নে রাজ্য সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগও এই পরিদর্শনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।
সচিবের এই মাঠপর্যায়ের সফরে উৎপাদক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক ও কর্মীদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ ও উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*