নবারুণ চক্রবর্তী, সাব্রুম, ০৩ আগস্ট || দক্ষিণ ত্রিপুরার কলাছড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সবিতা দাসের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শেষকৃত্যের সময় নিজের বোনের মুখে অগ্নি দেওয়ার পর শ্মশানের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার বর্ণনা দেন মৃতার ভাই অমূল্য দাস। এ সময় তিনি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অমূল্য দাসের অভিযোগ, রবিবার সকাল প্রায় ৭টার দিকে কলাছড়া রেলস্টেশন সংলগ্ন রাস্তার মুখে তার বোন সবিতা দাস (প্রায় ৫০) এবং সঙ্গীতা রায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় শান্তিরবাজার থানার মনপাথর আউটপোস্টে কর্মরত এএসআই পূর্ণ কুমার ত্রিপুরা চালিত একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ধাক্কা দেয় বলে তিনি দাবি করেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহত সবিতা দাস ও সঙ্গীতা রায়কে দ্রুত কলাছড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত সবিতা দাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। অপর আহত সঙ্গীতা রায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার সম্পন্ন হয় সবিতা দাসের শেষকৃত্য। শ্মশানে উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বোনের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে অমূল্য দাস আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এই দুর্ঘটনায় তাদের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা পূর্ণ কুমার ত্রিপুরার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলাছড়া এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে মৃতার পরিবার ও এলাকাবাসী।
