গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ সেপ্টেম্বর || জাতীয় দাবার মঞ্চে ফের সোনালি ইতিহাস রচনা করল ত্রিপুরা। পুদুচেরিতে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৩ দাবা প্রতিযোগিতায় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেছে খুদে দাবাড়ু ক্যান্ডিডেট মাস্টার আরাধ্যা দাস।
শ্রীকৃষ্ণ মিশন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সর্বকনিষ্ঠ বালিকা ক্যান্ডিডেট মাস্টার হিসেবে পরিচিত আরাধ্যা ১১ রাউন্ডের প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে মোট ৯.৫ পয়েন্ট অর্জন করে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা ছিনিয়ে নেয়।
প্রতিযোগিতার শেষ রাউন্ডে কেরালার জনকী এস ডি-র বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৮৯ চালের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয় পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে আরাধ্যা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ঠান্ডা মাথায় একের পর এক চাল সাজিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে জাতীয় চ্যাম্পিয়নের মুকুট অর্জন করে সে।
আরাধ্যার এই সাফল্য ত্রিপুরার দাবার ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ফিডে মাস্টার প্রসেনজিৎ দত্ত (১৯৯৫) এবং আন্তর্জাতিক মাস্টার আরশিয়া দাসের (গত বছর) পর রাজ্যের তৃতীয় দাবাড়ু হিসেবে জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল ম্যাট্রিক্স চেস একাডেমির এই প্রতিভাবান শিক্ষার্থী।
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সুবাদে আগামী দিনে বিশ্ব দাবা, এশিয়ান দাবা এবং কমনওয়েলথ দাবা প্রতিযোগিতায় সরাসরি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতাও অর্জন করেছে আরাধ্যা। তার এই সাফল্যে রাজ্যের ক্রীড়ামহল ও দাবাপ্রেমীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
সফলতার মুকুট মাথায় নিয়ে মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দরে পৌঁছালে আরাধ্যাকে ঘিরে দেখা যায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ। রাজ্য দাবা সংস্থা ও পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। পাশাপাশি মিষ্টিমুখ করিয়ে খুদে চ্যাম্পিয়নকে শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত সকলে।
আরাধ্যার এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ত্রিপুরার দাবা জগতের জন্যও এক গর্বের অধ্যায়। তার হাত ধরে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশায় রাজ্যের ক্রীড়ামহল।
