গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ সেপ্টেম্বর || “শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড এবং সমাজ গড়ার মূল কারিগর”—এই ভাবধারাকে সামনে রেখে রবিবার সন্ধ্যায় আগরতলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত হলো ত্রিপুরা TET Teachers Welfare Association-এর উদ্যোগে ৬৫তম শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা ও নবীন বরণ উৎসব ২০২৬।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুশ্রী প্রতিমা ভৌমিক। দ্বীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ধনঞ্জয় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ত্রিপুরা TET Teachers Welfare Association-এর সম্পাদক অজয় পাল।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য গুণী শিক্ষক ও সমাজ সংস্কারকদের সংবর্ধনা প্রদান। এদিন সাব্রুম এইচএস বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব দাসকে ‘বর্ষসেরা TET শিক্ষক’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর নিরলস অবদান ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হয়।
এছাড়াও বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয় আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ড. কনক চৌধুরী, ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আধিকারিক তথা প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ ভট্টাচার্য এবং জিরানিয়া মহকুমা বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবব্রত মজুমদারকে।
এদিনের অনুষ্ঠানে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নবনিযুক্ত TET-১, TET-২, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও বরণের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের নতুন পথচলাকে স্বাগত জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক বলেন, “শিক্ষকদের হাতেই তৈরি হয় দেশের আগামী ভবিষ্যৎ।” সরকারের জনকল্যাণমূলক শিক্ষা নীতিকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ত্রিপুরার নতুন প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব নবীন শিক্ষকদের কাঁধে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষক সংগঠন এবং নবীন শিক্ষকদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও শিক্ষাক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতিমা ভৌমিক। অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
