গোপাল সিং, খোয়াই , ২৭ অক্টোবর || ত্রিপুরা পুলিশ প্রশাসনের সিকিউরিটি উইংয়ের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্ব, সাম্প্রদায়িক মানসিকতা, ইচ্ছাকৃত হেনস্তা এবং আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি মহামান্য রাজ্যপালের দ্বারস্থ হলেন রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের তিপ্রামথা পার্টির বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। আজ রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে এই মর্মে একটি বিস্তারিত ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে বিধায়ক অভিযোগ করেছেন যে, এসপি সিকিউরিটি অমিতাভ পল পুলিশ প্রশাসনকে পক্ষপাতদুষ্টভাবে পরিচালনা করছেন। সিকিউরিটি উইংয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বদলি নীতি সঠিকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। এর ফলে কিছু নির্দিষ্ট পুলিশ কর্মী কোনো বদলি ছাড়াই বছরের পর বছর—এমনকি ৩ থেকে ৮-১০ বছর ধরে বিশেষ কিছু ভিআইপি এবং ভিভিআইপি-দের নিরাপত্তার দায়িত্বে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। অথচ অন্যদিকে অনেক পুলিশ কর্মীকে অত্যন্ত দুর্বিষহ ও অবহেলিত স্থানে পোস্টিং দিয়ে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। বিধায়কের নিজস্ব নিরাপত্তায় নিয়োজিত পিএসও-দের বারবার তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা পূর্ব তথ্য ছাড়াই বদলি বা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর পূর্বের পিএসও সুকেশ দেববর্মাকে হঠাৎ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ক্লোজ করা হয়। এই বিষয়ে এসপি সিকিউরিটির কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। উল্টে তাঁকে মানসিক চাপে রাখার জন্যই এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি। এসপি সিকিউরিটি উইংয়ের এই অনভিপ্রেত ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রতিবাদস্বরূপ গত ২৩শে অক্টোবর বিকেল ৩টে নাগাদ তিনি তাঁর নিরাপত্তায় থাকা দুটি পিএসও-কে এসপি সিকিউরিটির দপ্তরে ফিরিয়ে দিয়েছেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর কোনো পিএসও বা পুলিশ সুরক্ষা নেই বলে জানান তিনি। চিঠিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে অতীতে ত্রিপুরার একাধিক বিধায়ক ও মন্ত্রীর (যেমন—পরিমল সাহা, মধুসূদন সাহা, গৌতম দত্ত, মন্ত্রী বিমল সিনহা প্রমুখ) নিরাপত্তা অবহেলা ও পুলিশি পক্ষপাতিত্বের কারণে মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে এনে বর্তমান প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিধায়ক।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা সুদৃঢ় করতে এসপি সিকিউরিটি অমিতাভ পলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতির অভিযোগ এবং সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহামান্য রাজ্যপালের কাছে জোরদার আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। একজন হেভিওয়েট ল বিধায়কের এহেন নজিরবিহীন অভিযোগে গোটা রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
