পি এল ভি এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আটকে গেল নাবালিকার বিয়ে

nbগোপাল সিং, খোয়াই, ০৫ ডিসেম্বর ৷৷ ১৩ বছরের নাবালিকার বিয়ে। সোমবার ছিল মঙ্গলাচরন। আর একটু হলেই হয়তো বিয়েও হয়ে যেত এই নাবালিকার। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এই দু:সাহসিক কাজ করার ধৃষ্টতা দেখাতে গিয়ে বিপাকে পাত্র-পাত্রী উভয় পক্ষ। যোগ্য ভূমিকা নিল পুলিশ। সঠিক সময়ে এগিয়ে এলেন খোয়াই মহকুমা আইনসেবা কমিটির পিএলভি গোপা চক্রবর্তী। সম্মিলিত প্রয়াসে এক নাবালিকার জীবন কার্জত বেঁচে গেল। তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিত সমাজে প্রদীপের নীচের অন্ধকারে এমন ঘটনা প্রায়শ:ই ঘটে থাকে। কিন্তু আজকের ঘটনা অন্যদেরও যোগ্য জবাব দেবে বলেই মনে করছেন জনসাধারন। আইনকে তোয়াক্কা না করে এক নাবালিকার বিয়ের প্রস্তুতি নেবার মতো ঘটনা ঘটে গেল খোয়াইয়ের পূর্ব গনকী গ্রাম পঞ্চায়েতে। নাবালিকার জন্ম ০২-০৮-২০০৩ সালে। নাবালিকার পিতা প্রয়াত হয়েছেন। মা পূর্ণিমা চক্রবর্তী মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ে স্থির হয় কল্যানপুর এলাকার কৌশিক রঞ্জন গোস্বামীর সাথে। পাত্রের পিতার নাম কৃষ্ণ রঞ্জন গোস্বামী। কিন্তু বাদ সাধলেন সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করা খোয়াই মহকুমা আইনসেবা কমিটির পিএলভি গোপা চক্রবর্তী। ছুটে আসেন ডিসিএম সহ খোয়াই থানার পুলিশ। যৌথ প্রচেষ্টায় একটি নাবালিকার জীবন বিনষ্ট হবার থেকে রক্ষা পেয়ে গেল। একদিকে আইন অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। দুটোকেই চুলোয় দিয়ে এই বিয়ের আয়োজনকে কোনভাবেই সমর্থন করলেন না এলাকাবাসীও। যদিও পিতৃহীন মেয়ের বিয়ের সমস্ত আয়োজনই করে ফেলেছিলেন মা পূর্ণিমা চক্রবর্তী। কিন্তু তারপরও নাবালিকার দিকে চেয়ে এলাকার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষজন এই বিয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন। সেই সাথে পিএলভি গোপা চক্রবর্তী সহ প্রশাসনের যোগ্য ভূমিকার প্রশংসা করলেন এলাকাবাসী। আজকের এই ঘটনা বাল্য বিবাহ রুখতে একটা কড়া বার্তা দেবে বলেই মনে করছেন পিএলভি গোপা চক্রবর্তী। উনার মতে এতে করে ভাল সারা পরবে এবং আগামী দিনে আর কেউ এধরনের আইন বহির্ভূত কাজ থেকে বিরত থাকবেন বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*