সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ০২ মে ৷। করোনা পরিস্থিতিতে গোটা দেশে চলছে লকডাউন। এই সংকটময় দিনে ত্রিপুরা রাজ্যের অনেক ছাত্র-ছাত্রী সহ অভিভাবক-অভিভাবিকা আটকা পড়ে আছে বহিঃরাজ্যগুলিতে। এর পরেও কিছু কিছু ছাত্রছাত্রী এবং ভিন রাজ্যে চিকিৎসা করতে গিয়ে অসুস্থ রোগী তাদের স্বউদ্যোগে লক্ষাধিক টাকা খরচা করে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ত্রিপুরায় ফিরছে। এরই মধ্যে রাজস্থানের কৌটা শহরে পাঠরত ছাত্র ছাত্রীরা ও অভিভাবক একসাথে ২৪০ জনের বেশি বাসে করে ত্রিপুরা রাজ্যে ফিরছেন। যদিও রাজ্যে ফেরার পর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তাদেরকে হোম কোয়ারান্টিনে রাখা হবে। তবে এই সংকটময় দিনে দীর্ঘদিন ধরে আটকা পড়া ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি ফিরতে পেরে অসংখ্য ধন্যবাদ জানায় দুই রাজ্যেরই প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের।
প্রসঙ্গত, রাজস্থানের কৌটা শহরের এল এন ক্যারিয়ার ইনস্টিটিউটে পাঠরত ত্রিপুরা রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা তাদের অভিভাবক নিয়ে এই লকডাউনে রাজ্যে ফিরতে পারছিলেন না। এমতাবস্থায় রাজস্থান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং ঐ এলাকার ডি এম’র আন্তরিক চেষ্টায় ও ত্রিপুরা রাজ্যের প্রশাসনের ভেহিকেল পাসের ব্যবস্থায় জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা করে নিজ খরচায় ২৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী সহ অভিভাবক ১১টি বাসে করে শনিবার ১২টায় রাজস্থানের কৌটা শহর থেকে রওনা হয়। প্রায় ৮০ ঘন্টার বাস জার্নির পর চলতি মাসের ৬ তারিখ সম্ভবত ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবেশ করবেন তারা। তাদের জার্নি সম্পর্কে বলতে গিয়ে কোটায় পাঠরত তেলিয়ামুড়াৱ ছাত্রী সৃজা ভৌমিক উনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে ফিরতে পেরে উনারা খুবই আনন্দিত। তিনি আরো জানান, রাজস্থান সরকার এবং ঐখানের প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং ত্রিপুরা সরকারের ভেহিকেল পাশের ব্যবস্থাপনায় তাদের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও সৃজা ভৌমিক জানান, তাদের ত্রিপুরা রাজ্যে আসার ব্যাপারে ত্রিপুরা রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা ২৮-তেলিয়ামুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কল্যাণী রায় সৃজা ভৌমিকের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে চলছেন।