বাংলাদেশের সঙ্কটাপন্ন মানুষের জন্য সংহতি, খোয়াইয়ে রবীন্দ্রচর্চা ভবনের উদ্যোগে আলোচনাসভা

গোপাল সিং, খোয়াই, ১১ আগস্ট || সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনা ও দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে সৃষ্ট সঙ্কটের মুখে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেছে খোয়াইয়ের রবীন্দ্রচর্চা ভবন। রবিবার খোয়াই প্রেস ক্লাবে স্থানীয় রবীন্দ্রচর্চা ভবনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মনোজ্ঞ আলোচনাসভায় বক্তাদের কথামালায় উঠে আসে পড়শি দেশের সঙ্কটাপন্ন মানুষের জন্য সেই সংহতির বার্তাই।
এদিন বক্তারা বলেন, পড়শি যদি ভালো না থাকে তাহলে আমরাও কি ভালো থাকতে পারি! তাই সঙ্কীর্ণ পরিসরে হলেও রবীন্দ্রচর্চা ভবনের এই মহতী উদ্যোগ আমাদেরকে সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। সেদিক থেকে আয়োজকদের আয়োজন যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন এ ধরনের আলোচনার উদ্যোগ এক ব্যাতিক্রমী আয়োজন নিঃসন্দেহে।
বাংলাদেশ-ভারত সৌহার্দ্য উদ্যোগ শীর্ষক আলোচনাসভায় সভাপতি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রিয়তোষ ঘোষ। আলোচনার সূত্রপাত করে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্রচর্চা ভবনের কর্ণধার ও পরিচালক লেখক ও সমাজ কর্মী মলয় চক্রবর্তী।মূখ্য আলোচক ছিলেন বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস।এদিন বিধায়ক নির্মল বিশ্বাস বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, জীবনের যে কোন সমস্যা নিয়ে যে কোন পেশার লোক আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু সেই আন্দোলন যদি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে স্বেচ্ছাচারীতার পথে এগিয়ে গিয়ে ধ্বংসাত্মক কাজে উৎসাহ যোগায় তাহলেই বিপদ। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে এটাই ঘটেছে।আন্দোলনের রাশ সংগঠকদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে সুযোগ সন্ধানীরা। ওরা এক বা একাধিক রাজনৈতিক শক্তির লোকও হতে পারে।আর ঠিক এ কারণেই নিরীহ মানুষের মৃত্যুর মিছিল। আর সাথে আগুনের লেলিহান শিখায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সভ্যতা ও সংস্কৃতি। সরকারী বেসরকারী সম্পদের অবাধ লুঠতরাজ।বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তির অপমান আর অবমাননা। এসব মানা যায় না। প্রতিবাদ তো করতেই হবে। আশা করি পড়শি দেশে শীঘ্রই ফিরবে শান্তি সুস্থিতি। সরকারে কে আসীন হবে সেটা তো পৃথক বিষয়।
আলোচনাসভায় এছাড়াও কথা বলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সমাজ কর্মী প্রদ্যুৎ ভট্যাচার্য্য, সমাজসেবী মানিক দেবনাথ ও প্রাবন্ধিক জহর লাল দাস।
আলোচনাসভার শুরুতেই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থির সময়ে নিহতদের স্মৃতির প্রতি মৌনশ্রদ্বা জ্ঞাপন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা শহরের লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতি কর্মী সহ বিভিন্ন অংশের সমাজ সচেতন ব্যাক্তিরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*