প্রবল বর্ষণে বেশ কিছু নিচু এলাকা জলমগ্ন, প্রাণহানী একজনের, ক্ষতিগ্রস্থ ১০৬টি ঘর, খোলা হল ত্রাণ শিবির

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ মে || রাজ্যে গত দু’দিনে প্রবল বর্ষণের ফলে বেশ কিছু নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর জলস্তর ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজ্যে বৃষ্টি সতর্কতায় নদীর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন।
এদিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে রাজধানীর লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ি থেকে আগরতলা টাউন হল যাবার পথে শিকড় সমেত উপরে গেল একটি বিশাল গাছ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাকরণে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজস্ব সচিব ব্রিজেশ পান্ডে জানান, মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিব জে. কে. সিনহা এবং রাজস্ব সচিব ব্রিজেশ পান্ডের সঙ্গে রাজ্যের বর্ষণজনিত পরিস্থিতির বিষয়ে পর্যালোচনা করেন। তিনি বলেন, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জিরানীয়ায় জলে ডুবে একজনের প্রাণহানীর খবর পাওয়া গেছে। ১০৬টি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৩৩টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয় ৭৩টি ঘর। তিনি বলেন, পশ্চিম ত্রিপুরা এবং খোয়াই জেলায় ৪টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম জেলায় ৩টি এবং খোয়াই জেলায় একটি। এই শিবিরগুলিতে ৫৭টি পরিবারের ২০৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি জানান, গাছ ভেঙ্গে এবং রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় পানিসাগর, লংতরাইভ্যালি, জম্পুইজলা, জিরানীয়া, মোহনপুর, সদর, করবুক এবং সাবুম মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। টি এস আর, বন দপ্তর এবং স্টেট ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্স এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় রাস্তায় দ্রুত যান চলাচল এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আগরতলায় জহরব্রীজ এলাকায় হাওড়া নদীর জলস্তর বর্তমানে নিম্নগামী। রাজ্যের অন্যান্য নদীগুলিরও জলস্তর বিপদসীমার নিচে। স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে আবহাওয়া দপ্তর, কেন্দ্রীয় জল কমিশন ও পূর্ত (জল সম্পদ) দপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে প্রতিনিয়ত নদীগুলির জলস্তরের মনিটরিং করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল অর্থাৎ ৩১শে মে ২০২৫ উত্তর জেলা এবং ঊনকোটি জেলায় লাল সতর্কতা এবং অন্য জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিন আগরতলা পুর নিগমের ৪৩নং ওয়ার্ডে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করলেন আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত।
প্রবল বর্ষণে রাজধানীর বলদাখাল এলাকার জলে প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে স্কাউট কিউআরটি টিম। জিরানিয়ার এসডিএম অফিস থেকে স্কাউট এবং রোভারের মোট ৩৫ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা যায়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*