গন্ডাছড়ায় টিইসিসি অফিস ভাঙচুর ঘিরে তুমুল বিতর্ক, প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৬ জুন || গন্ডাছড়া মহকুমার টিইসিসি সমন্বয় কমিটির প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরনো দলীয় অফিস ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বৃহস্পতিবার। প্রশাসনের উদ্যোগে ভাঙচুর শুরু হতেই তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্ব। ড্রজার নিয়ে যখন প্রশাসন পুরনো দলীয় অফিসটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন দল বেঁধে সিপিআইএম নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে কাজ বন্ধের দাবিতে স্লোগান তুলতে শুরু করেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমার গন্ডাছড়া বাজার ও দুর্গাপুর গ্রামের সংযোগস্থলে অবস্থিত গন্ডাছড়া পঞ্চায়েত লেইকটিকে কেন্দ্র করে এই বিবাদ তৈরি হয়। বাজার ও গ্রামের মানুষের বহুদিনের চাহিদা ছিল লেইকটি সংস্কার করে আগের মতো ব্যবহারযোগ্য করে তোলার। অতীতে লেইকের জলই ছিল আগুন লাগা বা জরুরি পরিস্থিতিতে ভরসার স্থান। কিন্তু বাম শাসনকালে লেইকের আশেপাশের বসবাসকারীদের লেট্রিনের নিকাশী লেইকে পড়ে জল দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে লেইকটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
২০১৯ সালে প্রথম এই লেইক পুনঃসংস্কারের খবর প্রকাশিত হলে সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে লেইক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় প্রশাসন। লেইক সংস্কার, চারপাশে রাস্তা, রেলিং, শিশু পার্ক ও পার্কিং তৈরির কাজ শুরু হয়।
তবে মাসখানেক আগে লেইকের চারপাশের জঙ্গল সাফাইয়ের সময় স্থানীয় ৫৯টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সূত্রেই বৃহস্পতিবার টিইসিসি-র দলীয় অফিস ভাঙতে গেলে বাধা দেন সিপিআইএম নেতৃত্ব।
প্রশাসনের তরফে মহকুমা ডেপুটি কালেক্টর বাবুল মালাকার উপস্থিত ছিলেন। তুমুল বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয় মহলে এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সিপিআই(এম) নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, “এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। প্রশাসন বেআইনিভাবে দলীয় সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দিতে এসেছে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও জানানো হয়েছে, “লেইক উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা দূর করতেই আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*