বিশ্বশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৯ জুলাই || শান্তিরবাজার মডেল স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ফের চুরিকাণ্ড। তবে এবার সাধারণ মানুষের তৎপরতায় চুরিকাণ্ডে জড়িত এক যুবককে আটক করা সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে শান্তিরবাজার বিদ্যাজ্যোতি স্কুলের নবনির্মিত ভবনের নিকট এক যুবক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল বলে জানায় সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে পাকড়াও করে বেঁধে রাখেন তারা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত যুবক চুরির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় প্রবেশ করার কথা স্বীকার করে। শুধু তাই নয়, সে আরও জানায় যে, বিগত কিছুদিনে শান্তিরবাজার শহরের একাধিক এলাকায় এবং বিভিন্ন স্কুলে সংঘটিত চুরির ঘটনায় সে জড়িত ছিল। তার দাবিতে উঠে আসে আরও বিস্ফোরক তথ্য—এইসব চুরির পেছনে একটি চক্র কাজ করছে এবং চুরি করা সামগ্রীগুলি বিলোনিয়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে তারা নেশার সামগ্রী সংগ্রহ করে।
উল্লেখ্য, শান্তিরবাজার মডেল স্কুলে এর আগেও দুইবার চুরির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে স্কুলে নাইট গার্ড থাকা সত্ত্বেও চোরেরা নির্বিঘ্নে চুরি করে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, নাইট গার্ডের সহায়তায় চুরিকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। অনেকের অভিমত, পুলিশের নির্লিপ্ততার কারণেই সাধারণ মানুষ এখন নিজেরাই চোর ধরার কাজ করছে। তাদের দাবি, আটক যুবককে সঠিকভাবে জেরা করলে চক্রে জড়িত অন্যান্যদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আটক করা সম্ভব হবে।
এখন দেখার বিষয়, শান্তিরবাজার থানার পুলিশ এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার ও চক্রে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে কতটা সফল হয়। এলাকার মানুষ পুলিশ প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশায়।
