সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২১ জুলাই || গন্ডাছড়া মহকুমায় লাগাতার চুরির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। বিগত এক মাসে মহকুমা সদরের দুর্গাপুর, হরিপুর, ত্রিশকার্ড, ষাটকার্ড এবং নারায়ণপুর এলাকায় কমপক্ষে ৪৫টি চুরির ঘটনা ঘটে গেছে। কিন্তু, এসব ঘটনার একটিরও কিনারা করতে পারেনি গন্ডাছড়া মহকুমা থানার পুলিশ। ফলে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় গত শনিবার ত্রিশকার্ড এলাকার এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ কুড়ি হাজার টাকা চুরি করে এক জনজাতি যুবক। স্থানীয় জনতা চোরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ জানায় চোর নাকি পুলিশের হাত ফসকে পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ করতালি দিয়ে বিদ্রূপ করে পুলিশের “সফলতা” উদ্যাপন করে।
এখানেই শেষ নয়। রবিবার গভীর রাতে হরিপুর এলাকার পুরাতন মোটরস্ট্যান্ডের পেছনে অবস্থিত তিনটি জনজাতি পরিবারের বাড়িতে হানা দেয় এক চোরের দল। প্রায় দেড় কুইন্টাল রাবার শিট চুরি করে পালানোর সময় গ্রামবাসীরা তৎপর হয়ে চোরদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং উত্তম-মধ্যম দিয়ে স্থানীয় থানায় খবর দেন। সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার এমন ঘটনায় চোরেরা পার পেয়ে যাচ্ছে, এবং এর পেছনে পুলিশি গাফিলতি নয়, বরং ঘুষ ও সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও নির্ভরযোগ্য পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনজাতি অংশসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, আইনের প্রতি ভরসা না রেখে মানুষ এখন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
গন্ডাছড়ার পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনসুরক্ষা নিশ্চিত করা, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
