সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ২৯ জুলাই || একদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অপরদিকে পানীয় জলের তীব্র সংকট—এই দুই নিত্য প্রয়োজনীয় পরিষেবার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ গন্ডাছড়া মহকুমা সদর সংলগ্ন দুর্গাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ ও জল সমস্যার কথা প্রশাসনের অজানা নয়, তবুও নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়ে গিয়েছে বিদ্যুৎ ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর।
“জলের অপর নাম জীবন”—এই বহুল প্রচলিত বাক্যটিকেই যেন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে দুর্গাপুরসহ আশেপাশের গ্রামের বাস্তব চিত্র। মহকুমার অন্তর্গত একাধিক গ্রামে ট্যাংকে জল নেই, নলকূপে জল নেই, জল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। অথচ মহকুমা সদরেই রয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের অফিস, রয়েছে একাধিক কর্মী, ইঞ্জিনিয়ার ও এস.ডি.ও পদমর্যাদার আধিকারিক। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও তার সুফল মিলছে না সাধারণ মানুষের হাতে।
সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ ক্ষোভে ফেটে পড়েন দুর্গাপুরের একাংশ মহিলা। নাবু মিঞার বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি পাম্প হাউজ ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। পাম্প হাউজের নারী অপারেটরকে আটকে রেখে শুরু হয় তীব্র স্লোগান ও ক্ষোভপ্রকাশ। স্থানীয় নেতৃত্বদের বারবার ফোন করা হলেও কেউ ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি।
এই অবস্থায় এক সংবাদকর্মীর মধ্যস্থতায় জল দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার, চারজন মেরামত কর্মী ও একজন অফিস কর্মী ঘটনাস্থলে এসে আধাঘণ্টার মধ্যে জল পরিষেবা চালু করেন। এতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও নারীদের ক্ষোভ থেকে যায় বহাল। তাদের একাধিক প্রশ্নের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—”কোথায় গেল ‘জল জীবন মিশন’? কোটি কোটি টাকা কোথায় গেল? জল গেল পাতালে, টাকা গেল পকেটে?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এখন জল দপ্তরে জনস্বার্থে নয়, ঠিকাদারদের স্বার্থে কাজ হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জল দপ্তরে ঠিকাদারদের আনাগোনা লেগেই থাকে। অভিযোগ উঠেছে, পানীয় জলের কাজ নিয়ে চলছে কমিশন বাণিজ্য। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষ এখন নিজেরাই আন্দোলনের পথে।
এই ঘটনায় গোটা গন্ডাছড়া মহকুমায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
