কোয়াইফাং এডিসি ভিলেজে মহারাজা বীর বিক্রমের জন্মজয়ন্তী পালিত

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৯ আগস্ট || ত্রিপুরার আধুনিক রূপকার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের ১১৭তম জন্মজয়ন্তী পালন করা হলো দক্ষিণ জেলার কোয়াইফাং এডিসি ভিলেজে। মঙ্গলবার শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত কমিউনিটি হলে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই জেলা ভিত্তিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন দক্ষিণ জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত। এদিনের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলার জেলাশাসক মহম্মদ সাজাদ পি আই এ এস, শান্তির বাজার পুরপরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, জোলাইবাড়ী ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত ও ভাইস চেয়ারম্যান কেশব চৌধুরী, বি এস সির চেয়ারম্যান অশোক মগ, ভাইস চেয়ারম্যান জিতিরাম ত্রিপুরা, সমাজসেবী ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুজিত দত্ত প্রমুখ।
স্বাগত ভাষণ রাখেন শান্তিরবাজার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক অনুপম পাল। তিনি জেলা ভিত্তিক এই আয়োজনের জন্য জেলা সভাধিপতিকে ধন্যবাদ জানান। বক্তৃতায় সুজিত দত্ত বলেন, বর্তমান সময়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদে জনজাতিকে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে, ত্রিপুরার বিমানবন্দর মহারাজার নামে নামাঙ্কিত হয়েছে, আবার রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মণকে রাজ্যপালের পদে বসানো হয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে দীপক দত্ত মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্যের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯০৮ সালের এই দিনে মহারাজার জন্ম হয়। ১৯২৩ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি ত্রিপুরার রাজা ছিলেন এবং শিক্ষাক্ষেত্র, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে মহারাজার স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, তবে ২০১৮ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পর থেকে তাঁকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। আজ রাজ্যের সর্বত্র মহারাজার জন্মদিন সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হচ্ছে, তাঁর নামে বিমানবন্দর নামাঙ্কিত হয়েছে, এবং বিভিন্ন স্থানে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।
কোয়াইফাং এডিসি ভিলেজে আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম হয়। উপস্থিতদের মধ্যে মহারাজার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সর্বত্র উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*