গোপাল সিং, খোয়াই, ২০ নভেম্বর || খোয়াই বিদ্যালয় পরিদর্শকের উদাসীনতায় খোয়াইতে শিক্ষার পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠছে। অভিযোগের পাহাড় জমেছে। বিদ্যালয় পরিচালন কমিটিগুলো নামমাত্র। জেলা শিক্ষা দপ্তর জেলা সদর খোয়াইকে প্রাধান্য দিচ্ছেনা বলেও অভিযোগ জনগণের।
এদিকে জনগণ ও অভিভাবকদের অভিযোগ—বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রবেন কুমার দেববর্মার দায়িত্বকালেই অনিয়ম সবচেয়ে বেশি। সিবিএসই নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে। খোয়াইয়ের বিভিন্ন স্কুলে এখনও বার্ষিক পরীক্ষার সম্পূর্ণ ফল প্রকাশ হয়নি। সিবিএসই নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘পিরিয়ডিক টেস্ট-২’ নেওয়ার কথা জানুয়ারি মাসে, অথচ খোয়াইয়ের বহু স্কুল নভেম্বরেই পরীক্ষা শুরু করে দিয়েছে। দেড় মাস আগেই। গত ১৮ই নভেম্বর থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, অথচ নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করার উদ্যোগই নেয়নি বেশিরভাগ স্কুল।
খোয়াইয়ের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা নিয়ে উদ্বেগ চরমে। বিদ্যালয় পরিদর্শন দপ্তর, জেলা শিক্ষা দপ্তর ও রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের উদাসীনতার কারণেই ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নের মুখে—এমনটাই দাবি অভিভাবকদের। সিবিএসই-র নির্দেশিকা অমান্য, অনিয়মিত ক্লাস, শিক্ষক-সংকট, শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা—সব মিলিয়ে খোয়াইয়ের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা দিনদিন সংকটজনক হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি খোয়াই সরকারী দ্বাদশ শ্রেণি বালিকা বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বনেদী স্কুলেও শিক্ষক সংকটের মুখে দুটো-তিনটে ক্লাস একত্র করে একই কক্ষে পঠন-পাঠনের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এতে আরও বড়ো সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ছোটদের ওপর নিয়মিত মারধরের অভিযোগ ঘনঘন উঠে আসছে এই বিদ্যালয়ে। অভিভাবকেরা নাম ও প্রমাণসহ অভিযোগ জানালেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের ধমক খেতে হচ্ছে। শিক্ষকদের উদাসীনতা এবং কর্তৃপক্ষের নীরবতা মিলে আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের মতে, যে কোনোদিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, খোয়াই ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ও একই সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরেই শৃঙ্খলাহীনতা ও দায়িত্বহীনতার জন্য স্কুলটির কুখ্যাতি রয়েছে। কিছুদিন আগে এক ছাত্রীর মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযোগ, বেশিরভাগ নিয়মিত শিক্ষক ঠিকমতো ক্লাস নেন না; পড়ানো হয় না ব্যাকরণ, রচনা, অঙ্ক, কিংবা বিষয়বস্তু বুঝানো হয়না। বিএড ছাত্রদের দিয়ে চলছে ক্লাস, যার ফলে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে তলানিতে।
শিক্ষাদপ্তরের নির্লিপ্ত ভূমিকায় উদ্বেগ কেবলই বাড়ছে। খোয়াই জেলা শিক্ষা দপ্তর জেলার মূল কেন্দ্রের স্কুলগুলির ওপর নজর না দিয়ে দূরবর্তী এলাকাগুলিতে ব্যস্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে খোয়াইয়ের বনেদি স্কুলগুলোর ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। মানসম্মত শিক্ষার বদলে চলছে নিয়ম রক্ষার খেলা। ক্লাস না হওয়া, সিলেবাস অপূর্ণ থাকা, শিক্ষক-সংকট—সবই যেন প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।
অভিভাবকদের বক্তব্য, “শিক্ষা দপ্তর যদি এভাবে দায়িত্বজ্ঞান বিসর্জন দেয়, তবে খোয়াইয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যাবে।”
রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নীরবতাও সমালোচনার কেন্দ্রে। খোয়াইয়ের শিক্ষার মান একসময়ে সুনামের শীর্ষে থাকলেও, এখন তা রসাতলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন একটাই—এভাবে দায়িত্বহীনতার বলি কি হতে থাকবে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ?
শিক্ষকদের জবাবদিহি, বিদ্যালয় পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষা দপ্তরের সক্রিয়তা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশিষ্ট মহল।
