গোপাল সিং, খোয়াই, ২১ নভেম্বর || বনমন্ত্রীর নির্দেশেই কি বন দপ্তরের গাঁজা অভিযান? তাও আবার স্বদলীয় বিধায়কের খাসতালুকে! প্রশ্ন জনমনে। যদিও বৃহস্পতিবারের অভিযানের সময় ভয়াবহ এক পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বন বিভাগের ডিএফও।
মেলকাবাড়িতে গাঁজা বিরোধী অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন স্থানীয় জনগণ। তাদের দাবি, বন দপ্তর ও বিএসএফের কাছে আগেই এলাকাজুড়ে থাকা ব্যাপক গাঁজা চাষের নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল। কিন্তু বাইজালবাড়ি থানার পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে লোক দেখানো কয়েকটি গাঁজা বাগান ধ্বংসের ছবি বারবার প্রচার করে গোটা বিষয়টি আড়াল করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা কর্তৃপক্ষ প্রকৃত গাঁজা এলাকার অবস্থান ও বিস্তার সম্পর্কে সচেতন থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে শহরের সংবাদমাধ্যমকে অন্ধকারে রেখেছিল। এমনকি আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—গাঁজার প্রতিটি গাছের মাথাপিছু অর্থ লেনদেন হত বলে দাবি করেছেন বহু গ্রামবাসী।
জনগণের তথ্য অনুযায়ী, গাঁজা অভিযানের আগে তিন দপ্তরের মাষ্টার প্ল্যান তৈরীর সময়েই খবর পৌছে যায় গাঁজা চাষীদের কাছে। তাদের দাবি, সাধারণত সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এলাকায় পুরুষদের উপস্থিতি কম থাকে, আর সেই সুযোগেই তিন দপ্তর—বন দপ্তর, বিএসএফ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনার খবর পৌঁছে যেতেই এলাকার পুরুষরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এলাকার মহিলাদের দ্রুত জমায়েত হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চড়াও হওয়ার নির্দেশ দেন এবং পুরুষ চাষিরা যত দ্রুত সম্ভব ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
এ অবস্থায় বাইজালবাড়ি থানার একদল সদস্য হঠাৎই গলি পথে এলাকায় প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অভিযোগ। যে কারনে গাড়ীগুলি বের হয়ে আসতে পারেনি এবং ক্ষোভের মুখে ভাঙচুরের স্বীকার হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়ায় এবং গ্রামবাসীর আক্রমণে আহত হন এক বিএসএফ জওয়ান ও এক বনকর্মী। তবে জনগণের দাবি, ডিএফওর উপস্থিত বুদ্ধি ও তৎপরতার কারণেই তিনটি বিভাগের বহু আধিকারিক ও কর্মী বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান এবং সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করা থেকে রক্ষা পায়।
স্থানীয়দের মতে, মেলকাবাড়ির প্রকৃত গাঁজা চাষের বিস্তৃতি, বাইজালবাড়ি থানার ভূমিকা এবং অভিযানের সময়কার ঘটনা—সব মিলিয়ে রহস্য ও অসঙ্গতির জাল আরও গভীর হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কোনও দপ্তরই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি, কিন্তু গ্রামবাসীর সরব অভিযোগ ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
