গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ ডিসেম্বর || ত্রিপুরার আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়—১৯৯৬ সালের কল্যাণপুর–প্রমোদনগর গণহত্যার ২৯’তম বর্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত স্মরণসভায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।
স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১৯৯৬ সালের এই দিনে সিপিআই(এম)-এর মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠন এটিটিএফ মধ্যরাতে ঘুমন্ত শিশু, নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। মাত্র কয়েক মিনিটে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজও সেই বিভীষিকা আমাদের শিহরিত করে। আমরা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং সন্ত্রাসের পুনরুত্থান ঠেকাতে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।”
কল্যাণপুর–প্রমোদনগর মণ্ডল বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার মুখ্যসচেতক কল্যাণী রায় সাহা, খোয়াই জেলা বিজেপি সভাপতি বিনয় দেববর্মা, বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিরা।
স্থানীয় বিধায়ক পিণাকী দাস চৌধুরী বলেন, “১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের রাতটি ত্রিপুরার ইতিহাসে অনিবার্যভাবে লেখা থাকবে একটি ভয়াবহ হত্যালীলা হিসেবে। ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু, কিশোর, নারী, পুরুষ—কেউই রেহাই পায়নি।”
মুখ্যসচেতক কল্যাণী রায় সাহা আরও বলেন, “লাল সন্ত্রাসের সেই অন্ধকার দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—উগ্র ভাবাদর্শের কাছে গণতন্ত্রের কোনো মূল্য নেই। বন্দুকের নলকে ক্ষমতার উৎস ভাবা যারা শিখেছিল, তারাই এই নির্মম হত্যালীলা চালিয়েছিল। ত্রিপুরাবাসী কখনোই এই ইতিহাস ভুলবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা স্মরণসভার শেষে জানান—ত্রিপুরায় আর কখনও রক্তাক্ত রাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না। শান্তি, উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রই হবে রাজ্যের ভবিষ্যতের একমাত্র পথ।
