ছয় বছর টং ঘরে রতি মোহনের পরিবার — উন্নয়নের দাবির মাঝে উঠছে কঠিন প্রশ্ন

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৫ মার্চ || সামনে এডিসি নির্বাচন। প্রচারের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে, মাইক ফাটছে, জনসভায় ভিড় জমছে। রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু গন্ডাছড়া মহকুমার সীমান্তবর্তী ভগীরথ পাড়ায় পৌঁছালে সেই সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
এখানেই বসবাস করেন রতি মোহন ত্রিপুরা ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তাঁরা একটি টং ঘরে দিন কাটাচ্ছেন। মাথার উপর পাকা ছাদ নেই, নেই রেশন কার্ড বা জব কার্ড। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা থেকেও বঞ্চিত এই পরিবার। দুই বেলা খাবারের জোগাড় করাই তাদের কাছে প্রতিদিনের সংগ্রাম। সন্তানদের মুখে ঠিকমতো অন্ন তুলে দেওয়ার সামর্থ্যও নেই পরিবারের।
এই পরিস্থিতি ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কারণ ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (এডিসি)-তে ক্ষমতায় রয়েছে তিপ্রা মথা, আর রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। দুই দলই বর্তমানে জোটের অংশ। ফলে জনজাতি এলাকায় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
জনজাতি অঞ্চলে আবাস যোজনার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, রেশন কার্ড ও জব কার্ড বিতরণ—এসবই প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অথচ ভগীরথ পাড়ার রতি মোহন ত্রিপুরার পরিবার এখনও এই মৌলিক সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই ব্যর্থতা কি শুধু এডিসি প্রশাসনের, নাকি রাজ্য সরকারেরও সমান দায় রয়েছে?
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ হলেও পাহাড়ি জনজাতি অঞ্চলগুলোর বাস্তব চিত্র এখনও অনেক ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত। ধলাই জেলার বহু এলাকায় রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, পানীয় জলের সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, “যে পরিবার আজ দুই বেলা খাবার জোগাড় করতে পারে না, মাথার উপর পাকা ছাদ নেই—তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বড় কথা বললে হবে না। আগে বর্তমান সমস্যার সমাধান দরকার।”
ভগীরথ পাড়ার এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জনজাতি ভোটারদের একাংশ পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছেন—শুধু স্বপ্ন দেখিয়ে আর ভোট পাওয়া যাবে না। উন্নয়নের বাস্তব চিত্র দেখাতে হবে মাঠে।
এখন প্রশ্ন একটাই—ছয় বছর ধরে টং ঘরে বসবাস করা রতি মোহন ত্রিপুরার পরিবারের কাছে কি সত্যিই জবাব দিতে পারবে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব? নাকি নির্বাচন শেষ হলে এই প্রশ্ন আবারও হারিয়ে যাবে পাহাড়ি জনপদের নীরবতার মধ্যে?

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*