অবৈজ্ঞানিক রাস্তা-ঘাটের সাথে ফুটপাত জবর দখল, ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলে নাজেহাল জনসাধারন

khwগোপাল সিং, খোয়াই, ০৬ মে ৷৷ সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহের প্রারম্ভিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর আহবান ছিল ‘দূর্ঘটনা এড়াতে ফুটপাত ব্যবহার করুন’! কিন্তু খোয়াইয়ের রাস্তা-ঘাটের কঙ্কাল সাড় বেড়িয়ে পড়েছে। অবৈজ্ঞানিক রাস্তা-ঘাটের সাথে ফুটপাত (নামমাত্র রয়েছে) জবর দখল! ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলে নাজেহাল মানুষজন! অথচ একদা উন্নয়নের ধারায় খোয়াই, মহকুমা থেকে জেলায় উন্নিত হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে পরিবর্তনের ছুঁয়া লেগেছে। কিন্তু জেলা সদর খোয়াইয়ের রাস্তা-ঘাটের চেহারার বদল এখনও হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনের বহুকাল আগে থেকেই খোয়াই সুভাষপার্ক সহ গোটা শহরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাটের কঙ্কাল সাড় বেড়িয়ে পড়েছে । এদিকে খোয়াই মোটরস্ট্যান্ড থেকে কল্যানপুর এবং তেলিয়ামুড়া পর্যন্ত, ওদিকে সুভাষপার্ক, মহারাজগঞ্জ বাজার হয়ে সিঙ্গিছড়া। রাস্তার ওপর দিয়ে যানবাহনে চলাচল সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক হয়ে পড়েছে। শিশু থেকে বয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা থেকে স্কুল পড়ুয়া, অফিস কর্মী সহ নিত্যদিনের যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় খোয়াইয়ের রাস্তা-ঘাট। তার মধ্যে শারীরিক ধকল তো রয়েছেই। শিশু এবং বয়স্ক মানুষের পাশাপাশি রোগীদের যাতায়াতের জন্য খোয়াইয়ের রাস্তা-ঘাট অবৈজ্ঞানিকই বটে।
উদাহরনস্বরূপ খোয়াইবাসী যে তথ্য তুলে ধরেছেন তা নিতান্তই যুক্তিগ্রাহ্য। শহরের ব্যস্ততম এলাকা যেমন খোয়াই জেলা হাসপাতাল থেকে মহারাজগঞ্জ বাজার হয়ে সিঙ্গিছড়া (কমলপুর-আমবাসা রুট) পর্যন্ত রাস্তার পাশে কি আছে তার একটা চিত্র তুলে ধরলেন জনসাধারন:
(১) জেলা হাসপাতাল, (২) স্টেট ব্যাঙ্ক (পাশেই নার্সারী স্কুল), (৩) নবনির্মিত অত্যাধুনিক খোয়াই টাউন হল, (৪) পুর পরিষদ কার্য্যালয়, (৫) শ্রীনাথ বিদ্যানিকেতন স্কুল, (৬) ইংরেজী মাধ্যম দ্বাদশ স্কুল, (৭) সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, (৮) প্রধান ডাকঘর, (৯) আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা কেন্দ্র, (১০) খোয়াই থানা, (১১) বাস-স্ট্যান্ড, (১২) গ্রামীণ ব্যাঙ্ক (মূল শাখা), (১৩) অটো-স্ট্যান্ড এবং (১৪) মহারাজগঞ্জ বাজার, (১৫) দুর্গানগর, (১৬) সিঙ্গিছড়া (কমলপুর-আমবাসা রুট)।
এই হচ্ছে ব্যস্ততম রাস্তার বিবরন। কিন্তু ব্যস্ততম রাস্তার সংজ্ঞার সাথে রাস্তার পরিধী কিন্তু মোটেই খাপ খায় না। কারন রাস্তা ৫ মিটার পাশ। এরমধ্যে সাড়ে ৩ মিটার পিচ ঢালাই বাদ দিলে বাকি ফুটপাত বৈদ্যুতিক খুঁটি, সাইনবোর্ড, সাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহন এবং নির্মান সামগ্রী দিয়ে আটকানো। এই সাড়ে ৩ মিটার রাস্তা দিয়েই বাস-ট্রাক, প্রাইভেট গাড়ী, কমলপুর-আমবাসা থেকে যাত্রীবাহী গাড়ী, ছাত্র-ছাত্রী, বাই-সাইকেল সহ পথ চলতি জনসাধারণ এভাবেই জীবন বাজী রেখে প্রতিদিন খোয়াই শহরের ব্যস্ততম রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করছেন। বর্তমান খোয়াই শহরের ৯৮ শতাংশ রাস্তার পাশের ফুটপাতই দখলে রয়েছে ব্যবসায়ীদের। মালামাল এবং বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং তো রয়েছেই সেই সাথে রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। খোয়াই টাউন হল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো সাইকেল, বাইক কিংবা অন্যান্য যানবাহনও পথ চলতি মানুষের ক্ষেত্রে এবং যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে অসুবিধার কারন হয়ে উঠে। সব মিলিয়ে খোয়াই রাস্তা-ঘাটের অবৈজ্ঞানিক চেহরা ফুটে উঠলেও কোন দপ্তরেরই মাথা ব্যাথা নেই। যদিও নতুন সরকার সবে মাত্র ত্রিপুরার মসনদে বসেছে। কিন্তু রাজ্যের একটা নতুন রূপরেখার সাথে যেভাবে সক্রিয় কর্মসূচী অব্যহত রয়েছে সেই নিরীখে খোয়াইয়ের রাস্তা-ঘাটের কঙ্কাল সাড় চিত্র কোনভাবেই খাপ খাচ্ছেনা। শীঘ্রই খোয়াই শহর ও শহরাঞ্চলের ফুটপাত জবরদখল মুক্ত করে রাস্তা-ঘাটের আধুনিকতার সাথে পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদী খোয়াইবাসী।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*