আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৩ মে ৷। ৩ মে শেষ হল দেশ জুড়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের লকডাউন। সোমবার অর্থাৎ ৪ঠা মে থেকে শুরু হচ্ছে গোটা দেশে তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার আরও দুই সপ্তাহ অর্থাৎ ১৪দিন লকডাউনের সময়সীমা বৃদ্ধি করে। দেশের জেলাগুলিকে ভাগ করা হয়েছে রেড, অরেঞ্জ এবং গ্রিন জোনে। রেড জোনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। জোন ভিত্তিক নিয়ম বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে আগের দুই দফার মতো কড়াকড়ি থাকছে না লকডাউনের তৃতীয় দফায়।১। রাজ্যের ধলাই জেলাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে।
রেড জোনে নিষিদ্ধ সাইকেল, রিকশা, অটো, ট্যাক্সি, ক্যাব চালানো। এমএনআরইজিএ প্রকল্পের কাজ, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ, ইঁটভাঁটাগুলি চালু করার নির্দেশ মিলেছে। গ্রামীণ এলাকায় খোলা থাকবে শিল্পতালুক ও নির্মাণ কাজ। চালু থাকবে কৃষিকাজ ও অনুসারি শিল্প। প্রাণীপালন যেমন পোলট্রি, মৎস্য পালনের কাজ চলবে। উদ্ভিজ ও বনজ শিল্প ও অনুসারি শিল্প খোলা থাকবে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব রকম পরিষেবা চালু থাকবে। আয়ুর্বেদিকও এই পরিষেবার মধ্যে পড়বে। শিশুদের হোম, বয়ষ্কদের হোম, দুঃস্থ, দেউলিয়া, মহিলা ও বিধবদের জন্য হোম, অঙ্গনওয়াড়িগুলি চালু থাকবে। এছাড়াও রেড জোনে চালু থাকবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, আইটি ও অনুসারি পরিষেবা, ডেটা ও কলসেন্টার, হিমঘর, ওয়্যারহাউজ। চালু থাকবে টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা। জল, বিদ্যুৎ, সাফাই কর্মী পরিষেবা চালু থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চালু থাকবে ক্যুরিয়র ও ডাক পরিষেবা। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিষেবা আগের মতোই চালু রাখার সিদ্ধান্ত।
২। রাজ্যের গোমতী এবং উত্তর ত্রিপুরা জেলা অরেঞ্জ জোন হিসেবে ধরা হয়েছে।
অরেঞ্জ জোনে ট্যাক্সি ও ক্যাব চললে তাতে চালক সমেত সর্বোচ্চ দুজন যাত্রী থাকতে পারবেন। আন্তঃজেলা যাতায়াত নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই জোনে। অনুমতি ছাড়া আন্তঃজেলা যাতায়াত করা যাবে না।
৩। রাজ্যের বাকি ৫ জেলা গ্রিন জোনে আছে।
গ্রিন জোনে শর্তসাপেক্ষ সবধরণের পরিষেবাই চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিতে পারবে বাসগুলি। বাস ডিপোতেও ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। সব ধরণের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কোনও রাজ্য পণ্যবাহী গাড়ির চলাচলে বাধা দিতে পারবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। অরেঞ্জ ও গ্রিন জোনে ই-কমার্স সংস্থাগুলি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়াও অন্যান্য দ্রব্য সরবরাহ করতে পারবে।
কি কি বন্ধ থাকবে?
জোন ভিত্তিক কিছু বিধিনিষেধ ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দেশজুড়ে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।এর মধ্যে রয়েছে- ট্রেন, মেট্রো, বিমান ও আন্তঃরাজ্য সড়ক যাতায়াত বন্ধ। স্কুল কলেজ, নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্তোঁরা, সিনেমা হল, শপিং মল, জিম, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয়-জমায়েত, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ।
