জাতীয় ডেস্ক ।। শনিবার বিকেল। হরিয়ানা রাজ্যের গুরগাও শহরের ফোর্টিস হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কাতরাচ্ছে ১৬ বছরের এক কিশোর। তার হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে গেছে। জরুরিভিত্তিতে তার দেহে প্রতিস্থাপন করতে হবে এ অঙ্গটি। আর তা যদি না হয় তবে তার মৃত্যু অবধারিত।
অবশেষে হৃদপিণ্ডের খোঁজ মেলে। ত্রিশ বছর বয়সী এক যুবকের হৃদপিণ্ডটি দান করতে ইচ্ছুক তার পরিবার। দিল্লির এসকোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তিনি মারা যান। কেবল খোঁজ মিললেই তো হবে না, এটি সময়মত পৌঁছানো চাই।
গুরুগাওয়ের পুলিশ কমিশনারের কাছে ইমেইল করলেন ফোর্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যুবকের হুৎপিণ্ডটি দ্রুত গুরগাওয়ে পাঠাতে তারা যেন ব্যবস্থা নেয়। নিমেষে তৎপর হয়ে উঠল হরিয়ানা এবং দিল্লি রাজ্যের পুলিশ।
৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের সবকটি ট্রাফিক সিগনালে জ্বলে উঠল সবুজ বাতি। বন্ধ করে দেয়া হলো বাকি সব যানবাহন। এবার এসকোর্ট হাসপাতাল থেকে রওয়ানা হলো হৃদপিণ্ড বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স।
সঙ্গে চলল আরো বেশ কয়েকটি পুলিশের গাড়ি। পুলিশের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে মাত্র ২১ মিনিটেই হৃদপিণ্ডটি পৌঁছে গেল যথাস্থানে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এ দূরত্ব অতিক্রম করতে গড়ে দেড় ঘণ্টা সময় লাগার কথা।
শনিবার এই মানব অঙ্গটি দ্রুত পৌঁছানোর জন্য দিল্লি এবং গুরগাওয়ের বিভিন্ন সড়কে মোতায়েন করা হয়েছিল ২৩ পুলিশ সদস্যকে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর একই কায়দায় ব্যঙ্গালোর থেকে চেন্নাই পৌঁছানো হয়েছিল দুই বছর বয়সী এক শিশুর হৃদপিণ্ড। পুলিশের সহায়তায় এটি অন্য এক শিশুর দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছিল।
