১০,৩২৩ ভিক্টিমাইজড শিক্ষক সংগঠনের রাজ্যভিত্তিক সাংগঠনিক সভা

গোপাল সিং, খোয়াই, ৩০ সেপ্টেম্বর || অল ত্রিপুরা ১০,৩২৩ ভিক্টিমাইজড শিক্ষক সংগঠন-এর  দিনব্যাপী রাজ্যভিত্তিক সাংগঠনিক সভার ২য় তথা অন্তিম দিন ভীড়ে ঠাসাম খোয়াই নতুন টাউন হলে চাকুরীচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি জানান দিল বণিক-শর্মার সংগঠনই সঠিক দিশায় চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের জন্য কাজ করে চলছে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশন, উদ্বোধনী সঙ্গিত পরিবেশন সহ গোটা রাজ্যে বিগত সময়ে ১০-১০৮ জন প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে ১ মিনিট নীরবতা পালন করে শুরু হয় ২য় দিনের সাগঠনিক সভার কাজ। রাজ্য সরকার তথা বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব-এর ভূয়শী প্রশংসা করতে গিয়ে এটিভিটিএ রাজ্য সভাপতি প্রদীপ বণিক যেমন অনেকটা সময় অতিবাহিত করেন তেমনি পূ্র্বতন সরকার তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সহ তৎকালীন শিক্ষা আধিকারিক ও আমলাদের এক হাত নেন। প্রদীপ বাবু বলেন, ১০,৩২৩ চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের বর্তমান দূর্দশার জন্য কেউ যদি প্রকৃত দায়ী হয় তাহলে সেটা মানিক সরকার এবং উনার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের সমস্ত মন্ত্রী ও আমলারা দায়ী। কিন্তু তাদের এই অপকর্মের জন্য আজ কিন্তু ১০৩২৩ ভূগান্তির শিকার হলেও দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে ঐ সকল লোকগুলো যারা ১০৩২৩ কে নোংরা রাজনীতির জন্য ২৫টি বছর ব্যবহার করেছেন। তাই ১০৩২৩ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকুরীচ্যুতির জন্য দায়ী মানিক সরকার, তপন চক্রবর্তী সহ দায়ী সবক’টি নেতা ও আমলাদের জেলে পুড়ার জোড়ালো দাবী তুললেন প্রদীপ বাবু। যতক্ষন পর্য়ন্ত না তাদের জেলে পুরা হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত এটিভিটি সংগঠন থেমে থাকবেনা বলেও হুশিয়ারি দিলেন প্রদীপ বাবু। মুলত সংগঠনের সাথে যুক্ত ১০৩২৩ এর বিশাল অংশের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনোবল চাঙ্গা করতেই এই সাংগঠনিক সভা বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আসন্ন দূর্গাপুজার ১৫ দিনের মধ্যে জেআরবিটি রেজাল্ট ঘোষনা করা না হলে এটিভিটি সংগঠন ইতিবাচক পদ্ধতিতেই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে জানান প্রদীপ বণিক। তবে তিনি বর্তমান সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী’র ইতিবাচক মনোভাবের নিরীখে এবং আইন ও সংবিধান মেনে সরকার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাতে চলতি বছরেই এর সমাধান হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। তবে বরাবরই অশুভ শক্তি, শাসক বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ মদতে এবং ১০৩২৩ এরই কতিপয় শিক্ষকরা ১০৩২৩ চাকুরীচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে নোংরা খেলায় মত্ত হয়ে উঠে। কখনো কেইসের নামে টাকা তোলে, আবার কখনো আন্দোলনের নামে বিভ্রান্ত করে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে, নিন্দনীয় কথা বলে ১০৩২৩ এর ইস্যুটিকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জীবিত রাখার প্রয়াস জারি রেখেছে। কখনো কিডনি বিক্রি করে কেইস চালানোর বার্তা আবার কখনো আন্দোলনের নামে শাসক বিরোধী রাজনৈতিক দলের বাড়ী বাড়ী গিয়ে গোপন বৈঠক। সরকার যখন সদিচ্ছা নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে গেলো ১০৩২৩-কে গ্রুপ-সি ও ডি পোষ্টে সরাসরি নিয়োগের জন্য, তখন ইচ্ছাকৃতভাবে একদল কোর্টে গেলো শিক্ষকতার দাবি নিয়ে। আখেরে এই কেইসের জন্যই সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্বেও সরাসরি ১০৩২৩-কে নিয়োগে বাধা এলো। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে কি হতে পারে তা বর্তমান সময়ে রাজ্যের শিক্ষক, অশিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পূজা বোনাস ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার রাজ্য সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে পরিষ্কার। স্বাধীনোত্তর ভারতে কিংবা স্বাধীনতার পর ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষক, অশিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এরকম সিদ্ধান্ত কোন সরকারই গ্রহন করেননি বলেও পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করেন প্রদীপ বাবু। বিজ্ঞান শিক্ষকদের সমস্যা, সর্বশিক্ষার শিক্ষকদের সমস্যাগুলো একে একে সমাধান হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকার সুবিধা তারা পেয়ে গেলেও ১০৩২৩ এখনও কেন বঞ্চিত সেই প্রশ্নও তুললেন প্রদীপ বাবু। ২০১৮ নির্বাচনের আগে যখন রাজ্যে একটা রাষ্ট্রবাদী সরকারের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল তখন কিন্তু গোটা রাজ্যের ৫৩টি নির্বাচনী কেন্দ্রে জনসম্পর্ক অভিযান করে রাজ্যের মানুষকে সেই ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করেছিল একমাত্র এটিভিটি সংগঠনই। সেদিন লাল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, জীবন ঝুঁকি নিয়ে প্রাণপণ লড়েছিল এই সংগঠনই। কিন্তু ১০৩২৩ এর ইস্যু এখনও সমাধানের পর্যায়ে পৌছুয়নি। তবে বর্তমান সরকারের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে প্রদীপ বাবু আশা ও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে চলতি বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই একটা সমাধান হয়ে যেতে পারে। তবে সাংগঠনিক সভাগুলোতে দূর দূরান্ত থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশ নিতে সমস্যার সম্মুখিন হন বলেন জানান প্রদীপ বাবু। কেউ হয়তো দিনমজুরী কাজ করছেন, কেউ রাস্তায় দাঁড়িযে সবজি, মাংস ইত্যাদি বিক্রি করছেন। কেউ সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করছেন। খুবই দৈন্যদশায় ভুগান্তির শিকার ১০৩২৩ চাকুরীচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ।
তবে পাশাপাশি তিনি বলেন, সরকার সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করতে পারলে কিছুে একটা মিরেক্কল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরলেন প্রদীপ বাবু। পাশাপাশি সংগঠনের কর্মীদের আরও সংগঠিত থেকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আগামী দিনে একতাবদ্ধ হবারও আহ্বান জানান তিনি। অপরদিকে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অরবিন্দ শর্মাও বিগত সরকারকে তুলোধুনো করতে পিছপা হননি।
সাংগঠনিক সভার অন্তিম দিন সভার কাজ শেষে সবাই ভোজনে শামিল হন। খুবই আন্দঘন মুহুর্তের মধ্যেই সমাপ্তি হয় দু’দিনব্যাপী এটিভিটিএ সংগঠনের সাংগঠনিক সভার কাজ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*