আপডেট প্রতিনিধি, বক্সনগর, ২৫ ডিসেম্বর || শিক্ষাই সমাজ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। আর এই শিক্ষার মান উন্নয়নের সরকারি ও বেসরকারি নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। কিন্তু উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের চরম উদাসীনতার কারণে কোটি কোটি টাকার সম্পদ জলে যাচ্ছে। সরকারি অর্থ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি অন্যদিকে শিক্ষার অভাবে সামাজিক অনুন্নয়ন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনই একটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে বক্সনগর আইটিআই কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। তাদের চরম গাফিলতির কারণে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার লাটে উঠেছে বলে ছাত্র-ছাত্রী মহলের অভিযোগ। এই অভিযোগের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বক্সনগর প্রেস ক্লাবের সংবাদ প্রতিনিধি দল কলেজ সরজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। কলেজে গিয়ে দেখতে পায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী কলেজের তালাবন্দি মূল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তখন ঘড়ির কাটার সময় ছিল দুপুর ১২টা। তখন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারা যায়, যে গত ছয় মাস যাবত কলেজের পঠন পাঠন প্রশ্নচিহ্নের মুখে। কারণ শিক্ষকসহ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা ১০ ঘটিকায় ক্লাস চালু করার কথা থাকলেও প্রতিদিন কখনো বারোটা আবার কখনো দুপুর একটায় কলেজের গেট খোলা হয়। তারপর শিক্ষকরা স্টাফ কক্ষে কেরাম খেলে দুই ঘন্টা সময় কাটিয়ে বাড়িতে চলে যায়। নাম মাত্র প্রিন্সিপাল রাহুল ঘোষ কলেজটির দায়িত্বে রয়েছেন। প্রিন্সিপাল রাহুল ঘোষ এক টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে জানায়, তিনি কলেজের এই অবস্থার কথা কিছুই জানেন না। কিছু দিনের মধ্যে সে ব্যাপারটি সম্পর্কে পদক্ষেপ নেবেন। জানা যায়, এই নামধারী প্রিন্সিপাল রাহুল বাবুর সপ্তাহে একদিন আসেননি কলেজে। প্রিন্সিপাল রাহুল বাবুর নজরদারির অভাবে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার লাটে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ। তিনি ফোন বার্তায় সাংবাদিকদের জানায়, তিনি দুটি কলেজের দায়িত্বে আছে বলে বক্সনগরে যেতে পারেনি। বিশ্রামগঞ্জ আই টি আই কলেজে তার মূল দায়িত্ব রয়েছে। এটা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য কলেজটিতে ছয়টি বিভাগ রয়েছে। ইলেকট্রিক, কম্পিউটার, ড্রাইভিং, প্লাম্বার, ড্রেস মেকিং প্রভৃতি। এর মধ্যে চারটি বিভাগ রেজিস্ট্রিকৃত ৯০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিভাগের কোনো ছাত্রছাত্রী নেই। প্রতিদিন নিয়মিত ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী কলেজে উপস্থিত থাকেন। কারণ পরীক্ষায় বসলেই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। শিক্ষকদের কাছ থেকে গুণগত শিক্ষা না পাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের এই উদাসীনতার প্রকোপ। তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষকেরা সঠিক সময়ে কলেজে না আসা।তাছাড়া রীতিমতো কলেজে ক্লাস না হওয়ায় কারিগরি বিদ্যার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি প্রায় বিকল অবস্থায় রয়েছে। তাছাড়া নেই কলেজের বারান্দাও, ক্লাস গুলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।একটি জঙ্গলে পরিণত হয়ে রইল বক্সনগর আইটিআই কলেজ। মোট ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নজর দিতে পারছে না বলে অভিযোগ।
